সুপার ওভারে গড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। টাই হওয়া ম্যাচে সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে ১ উইকেটে ১০ রান তোলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর ডানহাতি পেসার রুবাই ইসলাম রিজনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪ রান তুলতে পারেন আফগানরা। এতে ৪ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল।
এর আগে ৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, শেষ দুই বলে ৮ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান রুবাই ইসলাম রিজন। চার ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়া এই ডানহাতি পেসার গতকালও বল হাতে ৪ উইকেট নেন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে হাত থেকে বের হয়ে যাওয়া ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখান তিনি। কিন্তু শেষ বলে ২ রানের অঙ্ক আর মেলাতে পারেননি।
ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে না পারলেও অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান শেখ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়ায় থাকায় ১ রান আদায় করে দেন। এতে টাই হয় ম্যাচ। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের যুবাদের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচে এটাই (৬০৮) সর্বোচ্চ রানের সম্মিলিত সংগ্রহের রেকর্ড।
আজ ওমানে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন নোমান সালারজাই। এছাড়া ফারিদউল্লাহ ইহসাসের ৫১ ও তাহির সারওয়ারির ৪৩ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ পায় আফগান যুবারা। বাংলাদেশের হয়ে রিজন চারটি এবং এসকে জারিফ সিয়াম দুটি উইকেট নেন।
জবাবে দিতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ৭০ রান যোগ করেন এসকে জারিফ সিয়াম ও আবদুল্লাহ আল মুহি। পরে আলামিন হোসেন রনি ৭১ এবং আহসান আল মুমিন ৫৬ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখেন। তবে শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও রুবাইয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আবারও জমে ওঠে ম্যাচ। মাত্র ১৯ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রুবাই।
শেষ ওভারে তার ছক্কায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ বলে সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৩০৪ রানেই থামে তাদের ইনিংস। ফলে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষটা হয় অমীমাংসিতভাবে। আফগানিস্তানের হয়ে নূর আলী নিয়াজাই তিনটি এবং সোহেল খান ও লুৎফুল্লাহ মোহাম্মাদি দুটি করে উইকেট নেন।