সাহস নাকি বোকামির খেসারত দিলেন!

বিএনপি নেতা, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মধ্যে আলোচিত হওয়ার বদঅভ্যাস আছে। অনেকের কাছে সাদেক হোসেন খোকাপুত্র ইশরাকের এ ব্যাপারগুলো সাহস নয়, বোকামি হিসেবেই বিবেচিত হয়। গত ১৬ অক্টোবর সর্বশেষ আলোচিত হওয়ার ঘটনা ঘটান তিনি। তাতে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে তরুণ এই নেতাকে। ঢাকার গে-ারিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমসহ নানা মহলে বেশ সমালেচিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকেও বেশ বেকায়দায় ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এ দায় নিতে চাননি। গতকাল সোমবার তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ইশরাক। তবে ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো মহলের মতে তিনি ঠিক কাজই করেছেন, আবার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সমালোচনাও হয়েছে দেশজুড়ে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকসুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইশরাকের অস্ত্র উঁচিয়ে মাদক অভিযান পরিচালনায় নামা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে বোকামিও আছে। একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করার বিষয়টি দল, সরকার ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারদলীয় এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের জন্য তরুণ নেতা ইশরাকের ত্যাগ আছে। গত দেড় দশকে বিরোধী দলের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকাপুত্রের রাজনৈতিক ত্যাগের ব্যাপারটিও আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে।

গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ইশরাক। এর আগে পদত্যাগ নিয়ে নাটকীয় বক্তব্য রাখেন তিনি। রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশকে গুজব বলে এড়িয়ে যান ইশরাক। গতকাল তিনি দাবি করেন, দলের সিদ্ধান্তে নয়, অন্য কারণে পদত্যাগ করছেন তিনি। ইশরাকের এ আচরণও অনেকের কাছে বোকামিই মনে হয়েছে।

৫ আগস্টের পর গত বছর মে মাসে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার পর তার শপথগ্রহণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। এ বিরোধ এতটাই জোরালো হয় ইশরাকের বিরুদ্ধে নগর ভবন দখল ও নাগরিকসেবা ব্যাহত করার মতো ঘোরতর অভিযোগ ওঠে। সে সময় তার সমর্থকরা নগর ভবন ঘেরাও করে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং এতে নাগরিকসেবা ব্যাহত করে। এই ঘটনায় তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ তোলেন। তবে এই ঘটনায় তরুণ সমাজ ইশরাকের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তারা তাকে সাহসী নেতা হিসেবেই গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র চারপাশ ঘিরে আন্দোলনও তখনকার সময়ে আলোচিত ঘটনা। সে সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে ইশরাকের সাহসী কর্মকা- বেশ আগ্রহের জন্ম দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষের শক্তির কাছে যমুনা ঘেরাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে তার কর্মকা- সমালোচিত হয়নি বরং সাহসী কাজ হিসেবেই স্বীকৃতি পায়। সেসময় ইউনূসের বাসভবন অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনায়ও ইশরাক আলোচিত হন।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার রাজনীতিতেও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন পুরান ঢাকার তরুণ নেতা ইশরাক। এ ঘটনার জন্য ২০২৩ সালের মে মাসে পল্টন থানায় ইশরাকের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা করা হয়। ওই মামলায় ২০২৪ সালের মে মাসে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর রায় দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওই ঘটনায় ইশরাক সারা দেশে আলোচনায় আসেন।