স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

সংবিধান সংশোধনীতে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এমন একটি সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে চাই, যে সংশোধনীকে অনেকে সংস্কার বলতে পারেন। তারা সংস্কার বলে যদি তুষ্ট থাকেন, আপত্তি নেই। কিন্তু তারা এ সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা এখন পর্যন্ত করছে না। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুনেছি বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন তারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন না। ১৮ কোটি জনগণকে সহযোগিতা করবেন। ১৮ কোটি জনগণকে সহযোগিতা করুন এটাই চাই। বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনা এবং সরকারের ভুলত্রুটি ধরে দেবেন আমরা এটাই চাই। কিন্তু রাস্তার বক্তব্য এবং সাংবিধানিক সংস্কারে আপনাদের যে অবদান, দুটোর মধ্যে মিল থাকতে হবে।

সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, সেই বিনির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, বাস্তবায়ন করে চলেছেন। শহীদের সব আকাক্সক্ষা সেই পরিকল্পনার অংশ।

সালাহউদ্দিন বলেন, একাত্তর-পরবর্তী সময়ে বারবার স্বৈরাচারের উত্থান-পতন হয়েছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে। বারবার বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সফল হয়েছি। সর্বশেষ ২০২৪-এ বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় এবং নেতা তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা-পরিচালনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জয়ী হয়েছি। জনতার জয় হয়েছে।

তিনি বলেন, সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণাকে সারাজীবন ধারণ করতে চাই। এভাবেই পথ চলব। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে। তার বাইরেও সব জনআকাক্সক্ষাকে একত্রিত করে সাংবিধানিক, আইনি, প্রগতিশীল ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ডে সেটি ধারণ করব। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন জুলাই অন্তরে প্রোথিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের সাক্ষাৎ : গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এর পর থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন এবং নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসব কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলমান দুর্গাপূজায় ম-পসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডিওর্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।

সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ কমিটি : কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় ইউএনওকে সভাপতি ও থানার ওসিকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ : গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকটের সার্বিক দিক এবং বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এক মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। তিনি এই সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বিশেষ দূত জুলি বিশপ বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান যে, সংঘাত বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কূটনীতি অব্যাহত রেখেছেন।

বৈঠকে সীমান্ত অঞ্চলে ল্যান্ডমাইনের আধিক্য, মানব ও মাদক পাচার এবং এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ডানকান কিথ উইলসন, ইউএনএইচসিআরের উপপ্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিয়সোনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।