সংঘবদ্ধ একাধিক চোর চক্রের আস্তানা চট্টগ্রামে

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ এএম

চট্টগ্রামে চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই উধাও হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। চালক একটু অন্যমনস্ক হলেই বিপণিবিতান, হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলাকা থেকে নিমেষে উধাও হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। তারপর বিভিন্ন হাত ঘুরে ভোল বদলে সেই চোরাই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন লাগানো হচ্ছে রিকশাভ্যান বা নৌকায়। গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ২০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর নগরের সিআরবি কাঠের বাংলো থেকে মো. সুমন নামে মোটরসাইকেল ‘চোর চক্রের’ এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে আনার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে নগরের চকবাজার ও কেতোয়ালি থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম শহর এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির একাধিক চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। নির্দিষ্ট তথ্য থাকায় সম্প্রতি চোরাই মোটরসাইকেল তল্লাশিতে জোর দিয়েছে সিএমপির বিভিন্ন থানার পুলিশ। সেই তল্লাশি অভিযানেই সাফল্য এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকা থেকে ছয়টি মোটরসাইকেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ার, মাইনুদ্দিন মুরাদ, শাহাদাত হোসেন ও আবু হুরায়রা। পুলিশ রিমান্ডে ধৃত আসামি সুমন জানান, দুই মিনিটের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও হয়ে যান তারা। চোরাই মোটরসাইকেল রাখতেন যার যার হেফাজতে। চুরির জন্য ছদ্মবেশে তারা ঘুরে বেড়াতেন চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন মার্কেট, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল চোর চক্রের একটি দল কিছু দিন পরপর জায়গা বদলে এ কাজ করে। এমন কয়েকটি চক্র এখন চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকায় কাজ করছে। চুরির পর মোটরসাইকেল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ আলাদা করা হয়। এরপর মোটরচালিত ভ্যান রিকশা কিংবা নৌকায় সেই মোটর লাগিয়ে নেওয়া হয়। অন্য যন্ত্রাংশও বিক্রি হয়ে যায়।

নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানান, গত ১২ অক্টোবর সিআরবি কাঠের বাংলো এলাকা থেকে মোটর সাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিসহ ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর আরও দুটিসহ গত এক সপ্তাহে ২০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি চক্রের আরেক সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দায়ের করা একটি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে চুরি যাওয়া আরও অনেক মোটরসাইকেল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিলবে বলে মনে করছে পুলিশ। সিএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, ধৃত চক্রটি বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষক্ষমতা আইনে চারটি মামলা, শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত