ট্রাম্প-জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের এমন একটি সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে গত রবিবার এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এবং শুক্রবার মস্কোর ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে একটি আদেশে সই করার পর দুই নেতার সম্পর্কের এই উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রাশিয়ার সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে পুতিন এ প্রস্তাব দেন। ওই ফোনালাপেই দুই দেশের মধ্যে ডিজেল কেনার চুক্তিও হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আসন্ন এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে তিন নেতার এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ক্রেমলিন। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনজেনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, বৈঠকটি হবে কি না বা এর সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি কী হবেÑ সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। তবে তিন পক্ষই এমন একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটির প্রতি আগ্রহী হতে পারেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে থাকায় ক্রেমলিনের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে রাশিয়া ও চীনের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তারাও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

তবে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ডিজেল কেনার চুক্তি এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেওয়া নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার সতর্কবার্তা, এসব পদক্ষেপ পুতিনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে। তবে শান্তি আলোচনা চালু রাখতেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।