হামজার হতাশার কারণ জানালেন ডুলি

ইংলিশ লিগের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দলে যোগ দিয়েছিলেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। মাঠে রক্ষণ সামলানো থেকে শুরু করে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণে অবদান, সব জায়গাতেই নিজের সামর্থ্যরে ছাপ রাখছেন তিনি। তবে সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘাটতি নিয়ে হতাশ হামজা। একই হতাশার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলিও।

বাংলাদেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে চার গোল করেছেন ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন পজিশনে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। কিন্তু হামজার পাস ও মাঠে তার নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় সতীর্থরা বুঝতে পারেন না। ফলে তৈরি হচ্ছে না প্রত্যাশিত আক্রমণ। 

ডুলি মিডিয়াকে বলেন, ‘ম্যাচে সব চাপ একসময় হামজাকে সামলাতে হয়, ঠিক তা নয়। তবে তার সমর্থন প্রয়োজন। হ্যাঁ, সে হতাশ, আমিও। আর এর পেছনে একটা কারণ আছে।’ 

হামজার হতাশার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের মান ও ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কোচ। তার মতে, হামজা সতীর্থদের অবস্থান বুঝে পাস দিলেও অনেকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন না। আবার ফাঁকা জায়গায় দৌড় দিলেও সতীর্থদের কাছ থেকে বল পান না তিনি। ডুলির ভাষায়, ‘আমাদের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় দরকার। কারণ, আমরা হামজাসহ যেভাবে ফুটবল খেলতে চাই, তা নিয়ে কথা বলেছি। হামজা সতীর্থকে দেখে এবং বল পাস করে, কিন্তু অন্য খেলোয়াড় সেটা দেখেও না, বোঝেও না। তাই বলের দিকে দৌড়ও দেয় না। এটা সম্পূর্ণ ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার বিষয়। কিংবা হামজা হয়তো ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে যাচ্ছে, সে পুরোপুরি খালি, কিন্তু বল পাচ্ছে না, কারণ তার সতীর্থ তাকে দেখতেই পাচ্ছে না।’

৬৫ বছর বয়সী এই কোচ মনে করেন, মাঠের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসের অভাবই বাংলাদেশের ফুটবলারদের বড় দুর্বলতা। পেশাদার ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় এই সক্ষমতা। ডুলি বলেন, ‘কারণ তারা মাঠ স্ক্যান করতে পারে না, তাদের সেই ফুটবলীয় জ্ঞানটাই নেই। একজন পেশাদার খেলোয়াড় এবং একজন অপেশাদার খেলোয়াড়ের মধ্যে মূল পার্থক্যটাই ঠিক এই জায়গায়।’

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ৯-২ গোলের হারও দল দুটির মানের ব্যবধান সামনে এনেছে। এ প্রসঙ্গে খেলোয়াড়দের আয়ের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন ডুলি। তার মতে, পেশাদার কাঠামো ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবধানও মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। ডুলির ভাষায়, ‘একটা কারণ তো নিশ্চয়ই আছে যে কেন বেশিরভাগ ইন্দোনেশিয়ান খেলোয়াড় বছরে ১ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে, আর আমাদের খেলোয়াড়রা আয় করে শূন্য থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। হ্যাঁ, এখানেই মানের গুরুত্ব রয়েছে।’