সুদান সীমান্তের বিতর্কিত অঞ্চলে ড্রোন হামলায় নিহত ৭৩

সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। সোমবারের (১৯ অক্টোবর) এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল এনগর। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। খবর রয়টার্সের। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সকে এনগর বলেন, হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, আবেই শহরের উত্তরে একটি বাজারে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

হামলার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ সুদান সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আবেই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর এ হামলার প্রভাব নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, হামলায় আহত ২০ জনের বেশি মানুষকে কাছের আমেথ বেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দগ্ধ রোগীদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালটির এমএসএফের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডাউয়ার জানান, আহতদের অস্ত্রোপচার, ক্ষতস্থানের পরিচর্যা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশের অন্তত ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং আটজন আহত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সংঘাতে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তিও জড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকটগুলোর একটি।