ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ ক্লাবটিতে নিজেদের সময়কার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেশাদারিত্ব, মানসিকতা এবং অনুশীলনে পরিশ্রমের ঘাটতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করেছেন এই ডাচ কোচ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, সেসময় রোনালদো নিজের আচরণ দিয়ে পুরো দলকে হতাশ করেছিলেন।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই টেন হ্যাগের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যেতে শুরু করে। ২০২২ সালের সেই উত্তাল সময়ে ডাচ কোচের অধীনে মাত্র ১৬ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড, যেখান থেকে গোল করতে পেরেছিলেন কেবল তিনটি। মৌসুমের শুরুতে দলবদলের গুঞ্জনের কারণে প্রি-সিজন সফরে অনুপস্থিত থাকা এবং পরবর্তীতে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি নামতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগেই টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়ার ঘটনাটি পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। এর ফলে পরবর্তী ম্যাচে তাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখেন কোচ। ঘটনার এক মাস পর পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানান যে, কোচের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান না পাওয়ায় তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন।
দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ডাচ ক্লাব এফসি টুয়েন্টের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টেন হাগ বলেছেন যে রোনালদো তাকে এবং পুরো দলকে বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে তিনি রোনালদোকে কতটা সম্মান করতেন এবং ম্যানচেস্টারে আসার আগে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার স্মৃতিচারণ করে টেন হাগ বলেন যে তিনি তাকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদো সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার এবং তাকে তিনি ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু একজন কোচ হিসেবে তাকে সেই মুহূর্তে দলের স্বার্থে সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে টেন হাগ আরও ইঙ্গিত করেন যে কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড অনুশীলনে নিজের সর্বোচ্চ নিংড়ে দিতেন না, যা তার বাজে ফর্ম এবং শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। রোনালদোর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে বহুবার মুখোমুখি আলোচনা হয়েছিল বলে জানান তিনি। কোচ হিসেবে তাকে বারবার বলতে হয়েছিল যে দলের সবাই তাকে সঠিক জায়গায় বল পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিশ্রম করছে, কিন্তু নিজে যদি বক্সের ভেতরে পজিশন না নেওয়া যায় তবে গোল করা অসম্ভব। রোনালদো শারীরিকভাবে সেটি করতে সক্ষম ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। টেন হাগ আরও বলেন যে এমন ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছিল যে তিনি রোনালদোর কাছে অতিরিক্ত প্রেসিং আশা করেছিলেন বা তাকে ক্লান্ত করে ফেলছিলেন। অথচ মূল সত্য হলো রোনালদো বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া কোনো সময়ই মাঠে দৌড়াতে চাননি। আর এর প্রধান কারণ ছিল তিনি নিজেকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে যথাযথভাবে প্রস্তুত করেননি।
টেন হাগ যোগ করেন যে রোনালদো দলের অন্য সতীর্থদের বলতেন অনুশীলনে যেন তারা নিজেদের পা বাঁচিয়ে চলেন। দলের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি এটি বুঝতে পারেন যে কোনো খেলোয়াড় যখন দারুণ ফিট থাকেন, তখন সেশনগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পা বাঁচানো যেতে পারে। কিন্তু তার আগে নিজের ফিটনেস কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিশ্রম করতে হয়। এই
উল্লেখ্য, একচল্লিশ বছর বয়সেও শিরোনামে থাকা রোনালদো সম্প্রতি পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় আবারও সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।