এনসিএলের মাঝপথে নিয়মে পরিবর্তন, তামিমের ১০ ছক্কার সেঞ্চুরি

জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম মৌসুমের মাঝপথে হঠাৎ নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। দুই রাউন্ড পর, অর্থাৎ চলমান তৃতীয় রাউন্ড থেকে দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার নিয়ম বদল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ৮০ ওভার নয়, ৭০ ওভারের পরই নতুন বল নিতে পারছে দলগুলো।

এ নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু এনাম মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘খেলায় ভারসাম্য আনতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিউক বলের আচরণ একরকম, কুকাবুরা আবার ভিন্ন। কুকাবুরা তুলনামূলক দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়। এ জন্য যেন পেসাররা আরেকটু সুবিধা পায়। এতে ব্যাটসম্যানদেরও চ্যালেঞ্জ বাড়বে।’

প্রথম দুই রাউন্ডে ১৫টি সেঞ্চুরি ও ছয়টি ম্যাচ ড্র হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে বাকি রাউন্ডগুলোতে ফ্লাডলাইট ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এই নিয়মের পরও থেমে নেই ব্যাটসম্যানদের রান উৎসব। নাঈম আহমেদের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রাজশাহী বিভাগ। অন্যদিকে, সেঞ্চুরি পেয়েছেন ঢাকার ওপেনার নাঈম শেখ ও খুলনার ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম। সিলেট বিভাগের হয়ে অমিত হাসান এক প্রান্ত আগলে রেখে ৯৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে লিড এনে দিয়েছেন। ৯১ রানে আউট হয়েছেন বরিশালের জাওয়াদ আবরার।

রাজশাহীতে ১৭৬ রান নিয়ে  তৃতীয় দিন শুরু করেন নাঈম। পরে সেটাকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২৬৭ বলে ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এরপর ৭ উইকেটে ৪৫৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী। ২২৮ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বরিশাল ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান তুলেছে। সব মিলিয়ে ২১ রানের লিড পেয়েছে তারা। দলটির হয়ে ওপেনার জাওয়াদ ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২২ বলে ফিফটি করেন। পরে দেখেশুনে খেলতে গিয়ে ৯৪ বলে ৯১ রানে আউট হন তিনি।

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাই নাঈম আহমেদ করলেন ডাবল

এদিকে চট্টগ্রামে রংপুরের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন সিলেটের অমিত। বিনা উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায়। জাকির হাসান ১৮ এবং সৈকত আলী ৩৬ রান করে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন অমিত। ১৯৮ বলে ছয়টি চারে ৯৪ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি। রংপুরের হয়ে মেহেদী হাসান ও আবু হাশিম দুটি করে উইকেট নেন। শেষ দিনে ২০৮ রানের লিডটা আরেকটু বাড়িয়ে ইনিংস ঘোষণা করতে চাইবে সিলেট।

সিলেটে দুই দলের সামনেই আছে জয়ের সুযোগ। খুলনার বিপক্ষে জিততে ১০১ রান প্রয়োজন চট্টগ্রামের। খুলনার প্রয়োজন পাঁচ উইকেট। এই ম্যাচে নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করেন খুলনার ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম। ১৪৭ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ১০ ছক্কায় ১৪২ রান করেন তিনি। 

আগের দিন ১২ রান করার পর চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন তামিম। ৬ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনা মঙ্গলবার ৩২৩ রানে। এদিন যোগ হওয়া ১৬২ রানের ১৩০–ই এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। ২৫৬ রানে নবম উইকেট হারানোর পর সফর আলীকে নিয়ে দশম উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন তিনি যেখানে সফরের অবদান শূন্য রান, আজিজুলের ৬৫ ও অতিরিক্ত ২।

২৭৫ রানের লক্ষ্য পাওয়া চট্টগ্রাম দিন শেষ করেছে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান তুলে। মাহমুদুল হাসান (৬০) ও সাদিকুর রহমান (৭৬) উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১২৯ রান। এরপর ২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে রাজশাহী। সামিউন বাসীর কনকাসনে (মাথায় আঘাতজনিত জটিলতা) বদলি হিসেবে নামা খুলনার বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার নিয়েছেন ৪ উইকেট।

অন্যদিকে, নিশ্চিতভাবেই ড্রয়ের পথে ঢাকা-ময়মনসিংহের ম্যাচ। গতকাল দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ঢাকা। মাহফুজুর রাব্বি ও অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম দ্রুত ফিরে গেলেও এক প্রান্তে আগলে খেলেন নাঈম শেখ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর তাইবুর রহমানের সঙ্গে গড়েন ৮২ রানের জুটি। ২০৬ বলে ১৩৫ রান করে আরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কা। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয় তাইবুরকে। ১৪৮ বলে ৯৩ রান করে রাকিবুল হাসানের শিকার হন তিনি। শেষ দিকে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ৩৪ রানে ৩৪২ পর্যন্ত পৌঁছায় ঢাকা। ময়মনসিংহের হয়ে রাকিবুল চারটি এবং শুভাগত হোম দুটি উইকেট নেন।