২৪ দিন পর মিলল কিশোরের হাড়গোড়, গ্রেপ্তার ২

২৪ দিন ধরে বুকভরা আশা নিয়ে সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন মা-বাবা। কিন্তু সন্তান ফিরল না, ফিরল তার দেহাবশেষ! সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল হাজারো স্বপ্ন, তার এমন করুণ পরিণতিতে দিশেহারা মা-বাবা। তাদের কান্নায় যেন একটাই প্রশ্ন, ‘আমার সন্তান কী অপরাধ করেছিল?’

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজের ২৪ দিন পর কিশোর অটোচালক সবুজের মাথার খুলি, হাড়গোড়সহ পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার আন্দি এলাকার শালবনের ভেতর থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) টাঙ্গাইল।

সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ছেলের পোশাক ও জুতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সবুজের বাবা-মা। এ সময় তারা ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তুলে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি সবুজ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার বাবা। একই দিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ভ্যান উদ্ধার হলেও সবুজের কোনো হদিস না মেলায় পরিবারে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দানা বাঁধে।

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন সবুজের বাবা-মা। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে সখীপুর ও গোপালপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে এসআরবি। গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাটিয়ারগুন গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। গ্রেপ্তার হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার সখীপুরের আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে জঙ্গলের ভেতর থেকে কিশোর সবুজের হাড়গোড় ও পোশাক উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান (৩৪) ও শাহীন (৩০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছিল তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর সবুজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।