পুলিশের ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে মাদকসহ ৮৪ জন আটক

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ৮৪ জনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ এ অবস্থিত আড়াই তলাবিশিষ্ট ওই বাড়িতে সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল এ অভিযান চালায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম ও ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবিরের দাবি, বাড়িটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের। তিনি বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। ওই বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদকের আসর বসত।

অভিযানের বিষয়ে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি এয়ারবিএনবির (অনলাইনের) মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যারা ভাড়া নিয়েছিলেন, তারা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। বাড়িটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসত। পাশাপাশি ডিজে পার্টিও চলত। বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য যেতেন। পরে তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ৮৪ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী। তাদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। আটক ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, ওই বাড়ি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও জন্মনিরোধক পণ্য ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। ওখানে একজন কো-হোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন। মূলত অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে ভাড়া বুকিং করে এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। এসব বিষয় অতিরিক্ত ডিআইজি অবগত ছিলেন কিনা, উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই জানতেন। পার্টি থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি পেতেন, ৩০ শতাংশ নিতেন তার স্টাফরা। তবে এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর ভাড়াটিয়া কি করেন তা আমি জানি না। আমার আশঙ্কা কেউ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তদন্তেই সবকিছু বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।