ফ্রান্সে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে সিকে ফ্রোজেন ফুড

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা পূরণ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি খাদ্যসামগ্রীর বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিকে ফ্রোজেন ফুড। বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত মাছ, সবজি, পরোটা, পিঠা, চাল, ডাল, বিস্কুট ও পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য আমদানি ও বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফ্রান্সকে কেন্দ্র করে ইউরোপের একাধিক দেশে এসব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টায় ফ্রান্সের সারসেল শহরে সিকে ফুডের নতুন ওয়্যারহাউস উদ্বোধন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকে ফ্রোজেন ফুডের ইউকে ও ইউরোপ জোনের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, গ্লোবাল সিকে ফ্রোজেন ফুডের পরিচালক ও সিইও মোহাম্মেদ রমজান আলী খাঁন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা জোনের পরিচালক ও সিইও আব্দুর রহমান বিশ্বাস।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিকে ফুড বাংলাদেশের পরিচালক সাহেব জাদা আলী খাঁন, সিকে ফুড ফ্রান্স ও পর্তুগালের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজ, সিকে ফুড ইতালির পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং সিকে ফুড পর্তুগালের পরিচালক ইকবাল নোমান।

প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মুশিউর রহমান মিশন, অ্যাকাউন্টস বিভাগের রুহুল আমিন, ফ্রান্সের সেলস এক্সিকিউটিভ রানা মাদবর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুব হোসেন রিজভি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির খাদ্যপণ্যের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ তারা পূরণ করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী। ফলে খাদ্যপণ্য আমদানি ও বিপণনের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে সিকে ফ্রোজেন ফুড।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে সিকে ফ্রোজেন ফুড। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিকে ফুড বাংলাদেশ, কাজী ফুড, প্রাণ ফুড, ইফাদ, স্কয়ার, মাসুদ ফুড, আনরাজ ফিশ, মাসুদ এগ্রো এবং প্যারাগন ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো। এসব প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বিপণনেও অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিকে ফ্রোজেন ফুডের ইউরোপীয় কার্যক্রমের প্রধান কার্যালয় ফ্রান্সে অবস্থিত। সেখান থেকে পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরেও পরিচালিত হচ্ছে পণ্য বিতরণ কার্যক্রম। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের পরিচিত খাদ্যপণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

ইউরোপের বাজারে খাদ্যপণ্য আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে পণ্যের মান, খাদ্যনিরাপত্তা, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড বজায় রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা ও পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব।

সামগ্রিকভাবে, সিকে ফ্রোজেন ফুডের কার্যক্রম প্রবাসী বাংলাদেশিদের খাদ্যচাহিদা পূরণ, দেশীয় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাংলাদেশের খাদ্যশিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিকাশেও সহায়ক হতে পারে।