অঙ্ক মেলানোর ম্যাচে আরও দুর্দশা বাংলাদেশের

ফাইনালে ওঠার সমীকরণটা বেশ কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। আগে ব্যাট করে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হবে। অথচ এমন একটা ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে নেমে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল বাংলাদেশ। আজ শারজায় ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেল তাওহীদ হৃদয়ের দল। লিটন দাসের চোটে একাদশে সুযোগ পেয়ে পারভেজ হোসেন ইমন একাই লড়লেন। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু সাইফ হাসান ছাড়া কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারলেন না। 

এর আগে আবুধাবিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে হারে রান রেটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এবার শারজায় বড় কিছু করে করে দেখাতে হবে তাদের। সেই অঙ্ক মেলানোর চাপ মাথায় নিয়েই টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক হৃদয়। কিন্তু শারজার উইকেটে শুরু থেকেই আফগান পেসারদের সামনে অসহায় দেখায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের টানা দুই বলে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। এরপর আজমাতউল্লাহ ওমরজাইয়ের আঘাতে সপ্তম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ও হৃদয়ও সাজঘরে ফেরেন। ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

সে ধাক্কা সামলে সাইফ ও ইমন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। ধীরগতিতে রান এলেও উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করেন দুজন। ৮২ বলে ৪১ রান করে সাইফ ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শেষ ভরসা হয়ে থাকেন ইমন। লিটনের চোটে দলে সুযোগ পাওয়া এই বাহাতি ব্যাটসম্যান তুলে নেন ফিফটি। কিন্তু অন্য প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ পাননি তিনি।

লিটনের বদলী হিসেবে দলে ঢুকে ৭০ রানের ইনিংসে দলকে লজ্জার হাত থেকে বাচিয়েছেন পারভেজ ইমন

ইমনের লড়াইও থামে ব্যক্তিগত ৭০ রানে। ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এই ইনিংসটি সাজান তিনি। দলীয় ১৫৬ রানে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমন আউট হলে বড় রানের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভার ২ বলে ১৬০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। আফগানদের হয়ে লেগ স্পিনার রাশিদ খান একাই ৪ উইকেট নেন।  

অথচ ম্যাচ শুরুর আগে ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ আশার কথা শুনিয়ে বলেন, 'আবুধাবির তুলনায় এখানকার উইকেট কিছুটা ব্যাটিং সহায়ক। বাউন্ডারিও ছোট এবং সুইং তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।' সঙ্গে যোগ করেন 'হেরে যাওয়ার (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) পর সবাই কিছুটা হতাশ ছিল, এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি দিন এক রকম যায় না। আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ (গতকাল) নতুন একটি দিন। আমরা নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করব এবং বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি জিততে নিজেদের শতভাগেরও বেশি উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করব।'