শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ যখন আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, তখন মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও হয়তো সমর্থকদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে জটিল এক গাণিতিক সমীকরণ। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হারের মাসুল এখন গুণতে হচ্ছে অলিখিত এই সেমিফাইনালে। এতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠতে হলে আজ কেবল জয় পেলেই চলবে না শান্ত-হৃদয়দের, মেলাতে হবে রাননেটের কঠিন অঙ্ক।
সমীকরণ বলছে, আজ আগে ব্যাটিং করলে যেকোনো ধরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে জয় পেতে হবে অন্তত ৪১ রানের বড় ব্যবধানে। আর যদি আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৩০০ রান তোলে, তবে ফাইনালের সমীকরণ মেলাতে বাংলাদেশকে সেই লক্ষ্য ডিঙাতে হবে মাত্র ৪২.২ ওভারের মধ্যে। রান তাড়ার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে এই ওভারের হিসাবও বদলাতে থাকবে। তবে এসব গাণিতিক জটিলতার আগে প্রধান কাজ ম্যাচটি জেতা, যা সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে বেশ কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে ২২ ওয়ানডের মধ্যে ১১টি করে জয় নিয়ে সমতা থাকলেও সাম্প্রতিক ইতিহাস পুরোটাই আফগানদের পক্ষে। সবশেষ দুটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের ৬ ম্যাচের ৫টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে হতে হয়েছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ। ওদিকে সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে শেষ পাঁচ ওয়ানডের চারটিতেই জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান, যার ঠিক উল্টো চিত্র বাংলাদেশের, পরাজয় পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই।
মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ওয়ানডের ব্যাটিং, বিশেষ করে দুই শতকের বেশি রান তাড়া করার ক্ষেত্রে। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে ১৫ বার দুই শর বেশি রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র চারটিতে। মধ্যভাগের এই টানা ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা আরও গভীর। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে শেষ তিন বছরে মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের চেয়ে কম গড়ে রান করেছে কেবল জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড।
মিডল অর্ডারের এই চরম দুঃসময়ে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন রশিদ খান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯ গড়ে ৩৫ উইকেট নেওয়া এই বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রয়েছেন অনবদ্য ফর্মে; সিরিজের সবশেষ ম্যাচেই ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি। একদিকে রশিদের স্পিন, অন্যদিকে সমীকরণের চড়া চাপ, সব মিলিয়ে শারজাহর মাঠে আজ তাওহীদ হৃদয়দের অপেক্ষা করছে এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা।
ম্যারাডোনাহীন তালিকায় সেরা ব্যালন ডি'অরের খোঁজ