অজগরের শিকারকৌশল

অজগর মূলত বিষহীন আদিম সাপ। অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি এবং শিকার গিলে  ফেলার বিশেষ দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এরা বেঁচে থাকে। প্রতিবার শিকার যখন শ্বাস ছাড়ে, অজগরের বাঁধন আরও শক্ত হয়। এর ফলে রক্তসঞ্চালন ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিকার দ্রুত মারা যায়। শিকার কাছে আসামাত্র অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তারা আক্রমণ করে। তাদের ঠোঁটের কাছে বিশেষ এক ধরনের তাপ সংবেদী অঙ্গ থাকে। এর মাধ্যমে আশপাশের উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের শরীরের তাপমাত্রা বা ইনফ্রারেড রশ্মি অনুধাবন করতে পারে। মানুষের কাঁধের হাড় কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও, বড় আকারের অজগরের পক্ষে শিশু বা ছোট গড়নের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে গিলে ফেলা সম্ভব। নিজের আকৃতির চেয়েও বড় শিকার কীভাবে গিলে তারা?  বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রথমে তারা শিকার পেঁচিয়ে চাপ দিয়ে মেরে ফেলে এবং পরে মাথার দিক থেকে খাওয়া শুরু করে। তাদের মুখের হাড় ও লিগামেন্ট অত্যন্ত নমনীয় হওয়ায় চোয়াল ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বড় করতে পারে। ফলে নিজের শরীরের চেয়ে বড় প্রাণী অনায়াসে গিলে ফেলে। বিশ্বে ১০ থেকে ১৩ প্রজাতির অজগর সাপ রয়েছে। বাংলাদেশেও তিন জাতের অজগর রয়েছে। এরা প্রকৃতি ও মানুষের জন্য নানাভাবে উপকারী। মূলত ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া অজগরের চামড়া, মাংস ও চর্বি বিশ্বঅর্থনীতি ও খাদ্য চাহিদায় ভূমিকা রাখে। এরা ৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।