গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

একদিকে অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, ঋণের বোঝা আর অভাবের সংসার। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে অসহায় মুহূর্ত আর কী হতে পারে! মাতৃত্বের মমতা আর বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতার এই নির্মম টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছিলেন গর্ভবতী আঁখি। শেষ পর্যন্ত তার সেই অসহায়ত্বের গল্প পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। এরপরই বদলে যেতে শুরু করে আঁখি ও তার পরিবারের আশার ছবি।  

আঁখি ও তার পরিবার থাকেন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার বাসায়। তার স্বামীর নাম রাজীব। স্ট্রোক করার পর আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। তবে কবিরাজের শরণাপন্ন হয়েছেন একাধিকবার। লাভ হয়নি। রাজীব রোদের মাঝে যেতে পারেন না। সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। বেশি সময় থাকতেও পারেন না দাঁড়িয়ে। সেজন্য উপায় না পেয়ে সন্তান বিক্রির মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্ত্রী আঁখিকে। এমনকি অন্য দুই সন্তানও ভালো পরিবারে দত্তক দিতে চেয়েছিলেন।

‘আমি গর্ভের সন্তানটি দান করতে চাই, ভালো একটি পরিবারে। আমি অসহায়, আমাকে সাহায্য করুন।’এমন একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাসখানেক আগে থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে সাহায্য চাইতেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে ‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে উঠে আসে পরিবারটির দুর্বিষহ জীবনের চিত্র। আঁখি তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। অথচ যে সময়ে একটি পরিবারের নতুন অতিথিকে ঘিরে আনন্দ আর স্বপ্ন বোনার কথা, সে সময়টিতেই অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে ভাবতে হচ্ছিল বেঁচে থাকার নির্মম হিসাব। কারণ, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো, চিকিৎসার খরচ জোগানো আর ঋণ পরিশোধ সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল পরিবারটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর পরিবারটির খোঁজ নিতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশনার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে, পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের দুর্দশা, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা এবং ঋণের চাপের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।

পরিবারটির সংকটের কথা জানার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার আঁখি ও তার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে ১ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আঁখির সন্তান প্রসবের সব খরচ বহন এবং পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

অনেকেই মনে করছেন, আর্থিক সহায়তার অঙ্কের বাইরেও এই উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, সংকটের মুহূর্তে অসহায় একটি পরিবারের খোঁজ নেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া মানুষের মনে নতুন করে ভরসা জাগাতে পারে। আঁখির জন্য এই সহায়তা শুধু ঋণের বোঝা কিছুটা লাঘবের সুযোগ নয়; অনাগত সন্তানকে ঘিরে ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখারও উপলক্ষ।