জাপানে বিমানের দ্বিতীয় ফ্লাইট চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সফরে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের সময় চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে দেশটির সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দ্বিতীয় ফ্লাইট চালু হচ্ছে।

বর্তমানে বিমান ঢাকা থেকে নারিতা রুটে সপ্তাহে প্রতি সোমবার একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমান কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে একই রুটে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি চালু হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে নারিতা রুটে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি চালু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার জাপানে যাচ্ছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চার দিনের সফর শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর তার ঢাকার উদ্দেশে টোকিও ত্যাগের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিষয়টি মঙ্গলবার দুই দেশের রাজধানী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম মঙ্গলবার সফরের ওপর অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জাপানের কাছে প্রধানত অর্থনৈতিক, পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে; যার মধ্যে অন্তত ৪টি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

সিয়াম বলেন, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে। বর্তমানে জাপানের অর্থায়নে সমুদ্রবন্দরটি নির্মিত হচ্ছে।

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় সংবর্ধনা নেবেন না। তবে আগামী ২৮ অক্টোবর তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জাপান-প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তিনি বলেন, জাপান-প্রবাসীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিমান সপ্তাহে দুইদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনি এমদাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে পর্যটন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বিমান গত ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে। এর মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে একমাত্র সরাসরি সংযোগ পুনরায় স্থাপিত হয়।

বাণিজ্যিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ, উড়োজাহাজের সীমাবদ্ধতা এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর, জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা, উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমানকে রুটটি আবার চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বৃহত্তর টোকিও এলাকার প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নারিতা শহরটি টোকিওর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) পূর্বে অবস্থিত।