কোমোর কাছে হেরে ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ব্রুনোর 

২০২১ সালে ওয়াটফোর্ডের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর ওলে গানার সুলশারের বরখাস্ত হওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতি কি তবে আবার ফিরছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে? ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর বিপক্ষে গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচেও হুবহু সেই একই চিত্রনাট্য দেখল ফুটবল বিশ্ব। ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের পর মাইকেল ক্যারিকের ডাগআউট ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। আর ম্যাচের পরপরই ব্রুনো ফার্নান্দেজের বিস্ফোরক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার দূরত্ব এখন চরমে।

ম্যাচের কৌশল নিয়ে কোচের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অধিনায়ক ব্রুনো, অন্যদিকে সমর্থকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের আশঙ্কায় দিন গুনছেন কোচ  ক্যারিক।

মাঠের খেলা শেষ হতেই দলের নিষ্ক্রিয় ফুটবল ও অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে নিজের অসন্তোষ চাপাতে পারেননি ব্রুনো। মাঠের কন্ডিশন ও পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি আঙ্গুল তোলেন কোচিং স্টাফদের দিকে। ম্যাচ শেষে ‘টিএনটি স্পোর্টস’কে দেওয়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে ব্রুনো বলেন, ‘ম্যান টু ম্যান প্রেস না করে একটু পেছনে জায়গা ছেড়ে দিয়ে বল পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্তটি ছিল কোচিং স্টাফদের। কিন্তু আপনি যখন এ ধরনের দলগুলোকে বেশি জায়গা ছেড়ে দেবেন, তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। আমাদের আরও সাহসী হতে হতো, প্রতিপক্ষের ওপর হাই-প্রেস তৈরি করে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা দেখানো উচিত ছিল।’ 

কোচিং স্টাফরা কি ভুল কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল, এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ড্রেসিংরুমের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়ে ব্রুনো আরও যোগ করেন, ‘এটা নিয়ে কথা বলা কিংবা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব ম্যানেজার এবং স্টাফদের, আমার নয়।’ 

সমর্থকদের কাছে ক্যারিকের ক্ষমা ও নিজের দায়

অধিনায়কের এমন ক্ষুব্ধ মন্তব্যের খবর পৌঁছাতে সময় নেয়নি সংবাদ সম্মেলন কক্ষে থাকা কোচ মাইকেল ক্যারিকের কাছে। ব্রুনোর মন্তব্য প্রসঙ্গে কড়া সুরেই তিনি দলের নিবেদন ও দৌড়ানোর মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত উঁচিয়ে এভাবেই ক্ষমা প্রার্থনা করেন ইউনাইটেড কোচ, ছবি: সংগৃহীত

তবে মাঠের এমন বিবর্ণ রূপের পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিক বলেন, ‘আপনি যে সিস্টেম বা ট্যাকটিকসেই খেলুন না কেন, মাঠে যদি আপনারা ঠিকমতো সামনে-পেছনে না দৌড়ান, তবে কোনো ম্যাচ জেতাই সম্ভব নয়। আমি ভ্রমণকারী সমর্থকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। নিজের জীবনের চেয়েও বেশি এই ক্লাবকে আমি ভালোবাসি। আজ রাতে যা দেখলাম, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ 

দলের এমন পরিণতিতে ম্যাচ শেষে অন্য খেলোয়াড়দের ফেলে রেখে একা গ্যালারির দিকে এগিয়ে যান ক্যারিক। সফরকারী ৭০০ রেড ডেভিল সমর্থকের সামনে দুই হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি, যেই দৃশ্যটি ইউনাইটেড সমর্থকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২১ সালে ওয়াটফোর্ডের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর ওলে গানার সুলশার বিদায়ের ঠিক আগের মুহূর্তের ছবি। চাকরি থাকা বা না থাকা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিক আরও যোগ করেন, ‘আমি নিজের ভবিষ্যৎ কিংবা অবস্থান নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছি না। সমর্থকরা যা অনুভব করছে, আমিও ঠিক একই বিষাদ অনুভব করছি। আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ 

রেকর্ড বইয়ে লজ্জার কালো দাগ

গেল মৌসুমে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাতে এসে ১৭ ম্যাচের ১২টিতেই জয় এনে দিয়েছিলেন মাইকেল ক্যারিক। আর তাতেই দীর্ঘ দুই বছরের বিরতি শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে ফেরানোর পুরস্কার হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল দুই বছরের স্থায়ী চুক্তি। তবে সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই যেন ভেঙে পড়েছে সবকিছু। 

বর্তমান মৌসুমে শেষ ৭ ম্যাচে জয়হীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড; যা ২০১৫ সালের পর তাদের সর্বনিম্ন পারফরম্যান্সের রেকর্ড। মাত্র দুই দশক আগেও যে কোমো ইতালির চতুর্থ বিভাগে আধাপেশাদার ফুটবল খেলত, সেই দলের আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজের ঝড়ে ১১৪ সেকেন্ডের মধ্যে গোল হজম করে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতেই পারেনি রেড ডেভিলরা।