ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৬ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপে ট্রাম্পের প্রতি এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন সমর্থনের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ভোটারই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

অক্টোবরে প্রায় ৩ হাজার ৪৯৪ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কর্মদক্ষতা নিয়ে ৫৯ শতাংশ ভোটার অসন্তুষ্ট। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম। জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৭৩ শতাংশ জ্বালানির দাম মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৬৪ শতাংশ ভোটার।

এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার। প্রায় আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপের ফলাফল ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের মুখে রয়েছে দলটি।

আগের নির্বাচনগুলোতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। এবারও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে মাঠে নেমেছেন তিনি। তবে অর্থনৈতিক নীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী তাঁর কাছ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন ব্যয় কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিদেশে নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু গত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলার ২৫ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে গত মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে ট্রাম্পের জনসমর্থন আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

এদিকে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে সামনে রেখে স্বতন্ত্র ও সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির প্রার্থীরা বলছেন, শুল্কসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কারণে ব্যয় বেড়েছে। এসব নীতির প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তাঁরা।

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে দলটিকে কঠিন আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। টেক্সাস, ওহাইও, নিউইয়র্ক, আলাস্কা ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের বড় অঙ্কের নির্বাচনী তহবিল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।