ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের, অনিশ্চিত বাংলাদেশ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত স্থগিত থাকা ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিলেও বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত ও অস্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা গত ১৪ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এই লটারি কার্যক্রম চালু করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিবন্ধনের তারিখ পরে জানানো হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন করার সময় ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার পর আদালতের হস্তক্ষেপে প্রক্রিয়াটি আবার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন আপিল করলে কর্মসূচির সময়সূচি বা বাস্তবায়নে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।

১৯৯০ সালের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের এই সংখ্যা শুধু লটারিতে নির্বাচিত মূল আবেদনকারীদের জন্য নয়; তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদেরও এর আওতায় ধরা হয়। 

ডিভি লটারিতে নাম উঠলেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। এটি মূলত অভিবাসনের জন্য আবেদন করার সুযোগ, সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নয়। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

সাধারণভাবে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অযোগ্যতার বিষয় ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত

ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতের নির্দেশ এলেও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের প্রশ্নটির এখনও সমাধান হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির জন্য দেশভিত্তিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে বাংলাদেশ এবার আবেদন করতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট নিয়ম কাজ করে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে সেই দেশের নাগরিকরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারান।

বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এর পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটিকে ডিভি লটারি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত