পাঁচ বছর পরে সন্তানের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পেলেন অং সান সু চি

মিয়ানমারের কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। তবে ৮১ বছর বয়সী সু চি এখনো গৃহবন্দি রয়েছেন। খবর এনডিটিভির।   

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

কিম অ্যারিস লিখেছেন, 'আজ অবশেষে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর আমার মা দাও অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। আবার তাঁর কণ্ঠ শুনতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।' 

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী নেপিদোতে গৃহবন্দি রয়েছেন সু চি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিম কীভাবে মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে ফেসবুকে পোস্টটির সঙ্গে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে তাঁকে লন্ডনে মিয়ানমারের দূতাবাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে মনে হয়েছে।

পোস্টে কিম আরও লিখেছেন, 'আমার মা ও আমার পাশে যাঁরা থেকেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের সোচ্চার ভূমিকা এই মুহূর্তটি সম্ভব করতে সাহায্য করেছে।'

তবে মায়ের সঙ্গে একবার কথা বলতে পারাকেই যথেষ্ট মনে করছেন না তিনি। কিম বলেন, 'আমার মায়ের বয়স এখন ৮১ বছর এবং তাঁকে এখনো অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। একবার কথা বলতে পারা মানে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া নয়।' 

১৯৯১ সালে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অং সান সু চি। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই সু চি আটক রয়েছেন। তাঁর আটকাবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সীমিত সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে।

কিম অ্যারিসের এই বক্তব্যে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর মা-ছেলের যোগাযোগের খবর সামনে এলেও সু চির সঙ্গে তাঁর পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।