মানবাধিকার রক্ষায় ইইউর সাখারভ পুরস্কার পেল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ২০২৬ সালের সাখারভ মানবাধিকার পুরস্কারে ভূষিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া এ পুরস্কারকে আদালতটির প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখনই এ স্বীকৃতি পেল নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতটি। ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটিকে ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসে এটি আইসিসির জন্য দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আদালতটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সাখারভ পুরস্কার দেওয়া হলো। এর আগে আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরও বিষয়টিকে চাপে থাকা আদালটির প্রতি সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আইসিসি। গত বছর আদালতটি ওই পরোয়ানা জারি করে। এরপর থেকে আদালটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

জাপানের নাগরিক ও আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এ পুরস্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আদালত ও এর কর্মকর্তারা যখন নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন এ পুরস্কার দেওয়া হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে সাখারভ পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে কাজ করা ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।’

২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে আইসিসি। গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে এটি শেষ অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। আদালতটির এখতিয়ারের আওতায় রয়েছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও আগ্রাসনের অপরাধ। এর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে এসব অপরাধকে এমন অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ‘মানবতার বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়’।

ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহারে বাধার মুখে পড়েছে। এমনকি মার্কিন ডলার ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আদালতটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে—এমন মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ছয় মাসের মধ্যে সেই সম্পর্ক গুটিয়ে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রয়াত ভিন্নমতাবলম্বী আন্দ্রেই সাখারভের নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছর দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনকে এ সম্মাননা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মনোনীত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ নেতারা বিজয়ী নির্বাচন করেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাষায়, মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ সম্মাননা।

এ বছর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আইসিসির পাশাপাশি ছিলেন তানজানিয়ার কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নেতা টুন্ডু লিসু এবং ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় কারাবন্দী যমজ বোন তারানেহ ও রোমিনা রহিমি।