পুরনো দিনে ফিরবে না বাংলাদেশ

ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৪ রান করে আউট হলেও আরেক ওপেনার জিসান আলম ততক্ষণে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ৫৫ বলে ফিফটি হাঁকান বিসিবি একাদশের হয়ে খেলা এ ব্যাটসম্যান। তখন এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা এক মাঠকর্মী বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘আজ (গতকাল) গোটা দিন ব্যাটিং করতে পারলে ২০০ করবে জিসান।’ যদিও সে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি এ ব্যাটসম্যান। ১০০ বলে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি। পরে ক্যারিবীয় বোলারদের শাসন করে ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নেন আরেক ব্যাটসম্যান কালাম সিদ্দিকী অলিন।

দুদিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৭১ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। এর আগেই অবশ্য ওই মাঠকর্মী ইঙ্গিত দেন প্রস্তুতি ম্যাচে এমন রানবন্যার প্রসঙ্গে, ‘বিসিবির চাহিদাপত্রেই এমন উইকেট বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানে বোলারদের জন্য কিছুই নেই। দেখছেন তো, বল একটুও ঘুরছে না। তাহলে বুঝে নেন মূল ম্যাচে কী হতে পারে। অবশ্যই এর উল্টোটা হবে।’

এই মাঠকর্মী মনে করেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে থাকায় ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে এবার স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলবে বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলও এমন সতর্কতায় ঢাকায় আসার আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের ক্যাম্পে স্পিনের বিপক্ষে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। এমনকি ১৫ সদস্যের দলে পার্টটাইমারসহ ৫ জন স্পিনারকে নিয়ে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছেন সফরকারীরা। গতকাল বসুন্ধরায় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশ যে সাতটি উইকেট হারিয়েছে, এর পাঁচটি নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা।

তবে মূল ম্যাচে স্পিন-সহায়ক উইকেটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য। দেশের ক্রিকেট আর পুরনো দিনে ফিরবে না দাবি তার, ‘এক পেসার বা দুই পেসার খেলানোর কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, সেখান থেকে আর পুরনো দিনে ফিরবে না।’ অর্থাৎ স্পোর্টস উইকেটেই খেলার অভ্যাস তার কণ্ঠে। তার আগে গতকাল বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বোলারদের। জিসান-কালামদের ব্যাটের সামনে বল ফেলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রাব্বি আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইফতেখার রহমানকে নিয়ে ৭৫ রান যোগ করেন জিসান। ইফতেখার ১৮ বলে আউট হওয়ার আগেই ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে ফিফটি তুলে নেন এ ওপেনার। এরপর তৃতীয় উইকেটে কালামের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করতে পারেননি। ১১ চার ও ২ ছক্কায় ৮৬ রান করেন জিসান।

তবে এই ভুল করেননি কালাম। ঠিকই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১৬১ বলে সেঞ্চুরি করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পরে ২০ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে ১৮৪ বলে ১৩৫ রানে আউট হন তিনি। দিনের খেলাশেষে উইন্ডিজের মতো জাতীয় দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ইনিংস নিয়ে কালাম বলেন, ‘একটু পার্থক্য ছিল। তবে আমাদের বর্তমান এনসিএল ও বিসিএল দলগুলোতেও অনেক ভালো মানের, লম্বা গড়নের খেলোয়াড় আছে। তাই তুলনা করলে, তেমন আহামরি কোনো পার্থক্য ছিল না।’

কালামের পর চৌধুরী মোহাম্মদ রেজওয়ান ৫৯ রানে থামেন। মাঝে জাকের আলী অনিক ৪৮ বলে ৩০ রানে আউট হন। শামীম পাটোয়ারী ৩০ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন।