ভয় থেকে ভরাডুবি বাংলাদেশ দলের!

ওয়ানডে সংস্করণে হার যেন তাড়া করে ফিরছে বাংলাদেশ দলকে। সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে, এরপর আফগানিস্তান। কোনো ম্যাচ না জিতেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। চাপের মুখে উইকেট হারানো, বড় জুটি গড়তে না পারা, সামান্য বিপর্যয়েই দিশেহারা হয়ে পড়া সব মিলিয়ে এ সংস্করণে নাজুক অবস্থায় তারা। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর দলের ভেতরও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে এমন আলোচনাও উঠেছে ক্রিকেটারদের মনে ভয় কাজ করছে।

বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য মনে করেন, গত জুন মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারে বড় ধাক্কা খান ক্রিকেটাররা। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৯৯ রানে বড় হারের কারণে মানসিকতায় প্রভাব পড়েছে তাদের। নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে এই সদস্যের দাবি, ‘দেখে মনে হচ্ছে ক্রিকেটারদের মনে ভয় কাজ করছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পরই মানসিকতায় ধাক্কা খেয়েছে। এর আগে জিম্বাবুয়েতে গিয়েও ওয়ানডে সিরিজ হারল। এবার এখানে হারল। এসব মিলিয়েই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন খেলোয়াড়রা। এমনিতে ওয়ানডেতে আমরা যে খারাপ দল, সেটিও তো বলা যায় না। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে এই সংস্করণে তো ভালোই ফল এসেছে। এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর মানসিকভাবে পিছিয়ে গেছে।’

পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচেই হার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারের পর আমিরাতেও একই চিত্র। অথচ সম্প্রতি দেশের মাটিতে বড় বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজরা।

সে কারণে সাম্প্রতিক ব্যর্থতাকে পুরো দলের সামর্থ্যরে প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চান না ভারপ্রাপ্ত ওয়ানডে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান সব ঘরের মাঠে ছিল। দল ভালো অবস্থায়ই আছে। কিছু জায়গা চোখের সামনে, সবাই দেখতে পাচ্ছে, ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। দেশে প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’

ঘরের মাঠে ভালো খেলা আর দেশের বাইরে গিয়ে ব্যাটিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলার এই বৈপরীত্য নতুন নয়। প্রায় দেড় বছর ধরে বিদেশের মাটিতে ওয়ানডেতে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছে না বাংলাদেশ দল। ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া, উইকেট বুঝে ব্যাটিং করা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘাটতি বারবার সামনে আসছে। জানা গেছে, এ জন্য ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর খেলোয়াড়দের নিয়ে ড্রেসিংরুমে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সেদিন সাবেক এ অধিনায়ক ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেশ কঠোর ভাষায় কথা বলেন।

সামনে এশিয়া কাপ। ঘরের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নের পথ কঠিন করে তুলেছে। বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অতীত রেকর্ড আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে, তবে বর্তমানের ব্যর্থতা আর ভীতু মানসিকতা থেকে কীভাবে বের হবেন হৃদয়রা?