ফটকের সামনেই বানরের আনাগোনা

জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পর্যটকদের কাছে অনেকটা স্বর্গোদ্যান হিসেবে পরিচিত এ বনটি বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য বিখ্যাত। উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে এশিয়ার একমাত্র আফ্রিকান টিকওক গাছ, যা এখনো মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এ বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, বন্য কুকুর, বন মোরগ, ভাল্লুক, মায়া হরিণ, অজগরসহ নানা প্রজাতির জীবজন্তু। এ ছাড়া অসংখ্য সিংহ বানর, দেশীয় বানরসহ কয়েক জাতের বানরের আবাস। সিংহ বানর আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন)’র লাল তালিকাভুক্ত বা অতি সংকটাপন্ন প্রাণী হলেও লাউয়াছড়ায় প্রচুর পরিমাণে তাদের আবাস রয়েছে। সিংহের মতো মুখাবয়ব এবং কেশর আছে বলেই এ বানরের নাম সিংহমুখী বানর বা সিংহ বানর। এটি উল্টোলেজি বানর নামেও পরিচিত।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সব ধরনের বন্যপ্রাণীর বসবাস সাধারণত গভীর বনাঞ্চলে। বনের যে অঞ্চলে পর্যটক বা মানুষের পা পড়ে না, সে অঞ্চলে প্রাণীরা নির্বিঘ্নে বসবাস করে। ফলে বনটিতে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক, চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, বন্য কুকুর, বন মোরগ, ভাল্লুক, মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির জীবজন্ত থাকলেও তা মানুষের দৃষ্টি সীমানার মধ্যে খুব একটা আসে না। তবে ব্যতিক্রম হলো সিংহ বানর আর সাধারণ দেশীয় বানর। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রচুর সিংহ বানর ও দেশীয় বানর উদ্যানের মূল ফটকের আশপাশে এবং পর্যটকদের ট্রেইলের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। বনে খাদ্য সংকটের কারণেই তাদের লোকসমাগমে আসা। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের দেওয়া কলা, চিপস, নারিকেল, কেক, বিস্কুট, ফলমূলসহ নানা খাবার খেয়ে তারা জীবনধারণ করে।

গত ২১ অক্টোবর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে বনটি লোকে লোকারণ্য। খাবারের সন্ধানে বানরের দল ভ্রমণে আসা পর্যটকদের আশপাশে ঘুরঘুর করছিল। পর্যটকদের কেউ কেউ এসব বানরকে নানা ধরনের খাবার দেয়।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণে আসা ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল করিম স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে পূজার ছুটিতে শ্রীমঙ্গলে এসেছেন। তিনি জানান, এ বনটির মূল সৌন্দর্য বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও গাছপালা। উদ্যানের মূল গেটের কাছে আসতেই প্রচুর বানরের দেখা পেয়েছি। খাবার নিতে বানরদের শান্তশিষ্টভাবে অপেক্ষা করার দৃশ্য খুবই মনোরম। বানরেরা কাউকে কামড় বা আঁচড় দিচ্ছে না। খুবই ভালো লাগল ব্যাপারটি।’

সিলেটের গোয়াইনঘাটের কলেজ শিক্ষার্থী তৈয়ব আলী বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে এবার অনেক বেশি সংখ্যক বানরের দেখা পেলাম। এবার তিন জাতের বানরের দেখা পেয়েছি।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে সিংহ বানরের একটি বিশাল দল বাস করছে। গত কয়েক বছর ধরে এদের দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে বিপুল সিংহ, বানর ও দেশীয় বানর দেখা যায়। তারা পর্যটকদের কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি বা আক্রমণ করে না। কোনো পর্যটক তাদের খাবার দিলে তারা খায়, খাবার না দিলে তারা ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে।’