শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব পালন সরকারের বড় সাফল্য

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজামন্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা এবং প্রশাসনের নজরদারিতে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে গত বুধবার শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসব। বড় ধরনের কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হওয়াকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মন্ডপে পূজা, অঞ্জলি, আরতি, দর্শনার্থীদের সমাগম এবং প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। এবারের পূজাকে নির্বিঘ্ন রাখতে উৎসব শুরুর আগেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। পুলিশ, বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিজিবি, আনসারন্ডভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সরকারের এ প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। উৎসবের সময় এসব ক্ষেত্রে নজরদারি জোরদার করা হয়। ফলে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এবারের পূজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিন লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ৩৪ স্থানে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন। ওইসব ঘটনার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘটনায় নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অভ্যাসগত চোর কর্তৃক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি, সরকারি বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয় উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুন্নকরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং আনন্দঘন পরিবেশে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে না দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ কর্মকর্তা) নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১ ঘটনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙার চেষ্টাসহ ভাঙচুর প্রতিরোধের ২০টি, বিবদমান সমস্যা সমাধানের ৩৬, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধের দুটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনার তথ্য রয়েছে। এ সময়ে ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জন দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ শিশুকে উদ্ধার এবং চুরির অপরাধে ছয়জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ১৫ ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারসহ বিবিধ সমস্যাসংক্রান্ত ৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে বিভিন্ন দর্শনার্থী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের দুর্গাপূজা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ঢাকা শহরসহ দেশের কোথাও কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে আসা দর্শনার্থী রাহুল দে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের পূজা উদযাপনের পরিবেশটা একেবারেই অন্য রকম। কোনো ভয় ও শঙ্কা দেখিনি কারোর মধ্যে। আমার মুসলিম বন্ধুরাও পূজার অনুষ্ঠানে এসেছে, তারাও কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। প্রতিবার সরকার যেন আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এমন সুন্দরভাবে ব্যবস্থা করে। সাধারণত অন্য যেকোনো বার একটু ভয় লাগে। এবার সারা দেশের শান্তিপূর্ণ অবস্থা দেখে খুবই ভালো লাগছে।

গত বুধবার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা বলেন, এবারের পূজায় বরাদ্দ এবং সরকারি ছুটি বেশি ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত মন্ডপে পূজার্চনা চলেছে। সাধারণ মানুষসহ দর্শনার্থীরা চলাফেরা করেছে;, তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার অত্যন্ত উৎসবের পরিবেশে দুর্গাপূজা পালন করা হয়েছে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। সব সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে শামিল হয়েছে। আর প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি। বর্তমান সরকার চেয়েছে, এবার অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা হোক, তাই হয়েছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করে একেবারে নিñিদ্র নিরাপত্তা দিয়েছে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল ছিল। দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এআইজি কামারুম মুনিরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াত, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল। পূজাকেন্দ্রিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়। এবারের দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় তিন লক্ষাধিক পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা শেষ হওয়ায় সব স্টেকহোল্ডারের প্রতি কৃতজ্ঞ পুলিশ।

আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত নিরাপত্তা সাফল্য : দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে গত ৩০সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক সভাশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন পূজামন্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পূজার আগে, পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় এই তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পূজামন্ডপকে তিন ভাগে ভাগ করে সাজানো হয় নিরাপত্তাবলয়। সেভাবে ফোর্স মোতায়েন থেকে শুরু করে নজরদারি ও বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়। সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি, গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১ এবং সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি। এর মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ১২৬টি পূজামন্ডপের মধ্যে ২৯৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপ ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো, টহল জোরদার, সন্দেহজনক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়। কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা সারভিলেন্স করে সাইবার টিম।

নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা : উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও আনসারন্ডভিডিপির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বিভিন্ন পূজামন্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার মন্ডপগুলোতেও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। আনসার বাহিনীর ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ সদস্য এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের প্রায় ছয় হাজার সদস্য প্রতিদিন দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারি, টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

একই দিন পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান, দেশের ৩৩ হাজারের বেশি মন্ডপে যৌথ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়। পূজা কমিটিগুলোর সহযোগিতাকে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরকারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এ সাফল্য : বাংলাদেশের মতো বহুধর্মীয় সমাজে একটি বড় ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মতো বড় আয়োজনে বিপুল জনসমাগম, যানবাহন চলাচল, বিসর্জন এবং বিভিন্ন স্থানে একযোগে অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের পূজাক কেন্দ্র করে সরকারের আগাম প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি সেই সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করেছে। উৎসবের প্রধান আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন হওয়া এবং বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হওয়া সরকারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা : দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন নয়; বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চর্চা আরও শক্তিশালী হয়। এবারের দুর্গোৎসবের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আগাম পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা একসঙ্গে কাজ করলে বড় ধর্মীয় আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এ অভিজ্ঞতাকে সরকারের একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

দুর্গাপূজায় ১৩১টি ঘটনা প্রতিরোধ করেছে আনসার : দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সারা দেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ আনসারন্ডভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত পূজামন্ডপগুলোতেও বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ছিল পরিকল্পিত ও বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অংশ। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্সে ৬২৪ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়। ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সদস্যদের দায়িত্বে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে পূজামন্ডপ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং বিশেষ করে নারীন্ডপুরুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পূজান্ডপরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের দিকনির্দেশনায় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা হয়। বাহিনীর সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এসব পদক্ষেপ পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ, শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের ক্ষেত্রে আনসারন্ডভিডিপি সদস্যদের সক্রিয়তা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে আনসারন্ডভিডিপির তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে। ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ন্ডএর মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। পূজার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় চার আনসারন্ডভিডিপি সদস্য মৃত্যুবরণ করেন এবং ১৭ সদস্য আহত ও অসুস্থ হন। তাদের আত্মত্যাগকে বাহিনীর সবপর্যায়ের কর্মকর্তান্ডকর্মচারী ও সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত