পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মৎস্য বিভাগের স্পিডবোট ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ জেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরে পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে দুটি মাছ ধরার নৌযান ও ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়ার বিপরীতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা, দুধলমৌ ও নারায়ণকূল সংলগ্ন পায়রা, পাণ্ডব ও পাতাবুনিয়া নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চলাকালে নদীতে কয়েকটি নৌকায় জেলেদের মাছ ধরতে দেখেন অভিযান পরিচালনাকারীরা। নৌকাগুলো আটক করতে এগিয়ে গেলে জেলেরা গামছা উড়িয়ে অন্যদের সংকেত দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও ১৫ থেকে ২০টি নৌকা নিয়ে সংঘবদ্ধ জেলেরা অভিযানের স্পিডবোট ধাওয়া করেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
এ সময় পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা আল রাজিব পৃথক একটি বোটে ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযান পরিচালনাকারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পরে দুমকি ও পটুয়াখালী সদর এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে খবর দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চারটি স্পিডবোট ও তিনটি নৌযান নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়। এ সময় দুটি মাছ ধরার নৌযান জব্দ করা হয়।
অভিযানে জব্দ করা ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল পরে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযানের সময় সংঘবদ্ধ জেলেরা স্পিডবোট ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুটি নৌযান ও অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগকে জানানো হয়েছে।