জুলাইকে অস্বীকার করে আ. লীগের রাজনীতির সুযোগ নাই: তথ্যমন্ত্রী

জুলাইকে অস্বীকার করে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নাই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে পার্থ বলেন, জুলাইকে স্বীকার করতে হবে এবং এ বিষয়ে ক্ষমাও চাইতে হবে। সংশ্লিষ্ট দোষীদের সাজা হওয়ার পর দেশের মানুষ যদি মনে করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত সময়ই বলে দেবে।

আগে বলতো দেশে জঙ্গি জঙ্গি, এখন বলে দেশে গণতন্ত্র নাই, আওয়ামী লীগ বহির্বিশ্বে একটা নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।  

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও উদযাপন প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত নির্বিঘ্নে ও সুন্দর নিরাপত্তার মধ্যে পূজা উদযাপন তিনি দেখেননি। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার কিছুদিন পর থেকেই দেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। ভারতের কিছু গণমাধ্যমেও তা প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের সময় লাগছে। তবে মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে, সংসদে বিরোধী দলও রয়েছে। তার বিশ্বাস, দেশের গণতন্ত্র আরও উন্নত হবে এবং ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।

শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে তার ধারণা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ এখনো পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। সেই মানসিক অভিঘাত এখনো রয়ে গেছে। তাই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি মনে করেন না।

গণসংযোগকালে বিজেপির ভোলা জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।