চট্টগ্রামের পার্সিভ্যাল হিলে সংযোগ সড়কের প্রতিবাদে বাসিন্দাদের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ পার্সিভ্যাল হিল সোসাইটির সরু আবাসিক পথটি অন্য কোনো এলাকার নতুন বহুতল ভবনের চলাচলের রাস্তা হিসেবে সংযোগ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পার্সিভ্যাল হিল জামে মসজিদের অজুখানা উচ্ছেদের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে পার্সিভ্যাল হিল জামে মসজিদের সামনে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা অবৈধ সড়ক বন্ধ করুন, অবৈধ লড়াইয়ের বিরুদ্ধে এক হও লড়াইয়ে, অবৈধ কারসাজি মানি না, মানব না; অযুখানা ভাঙলো কেন? জবাব চাই, জবাব চাই; সিটি করপোরেশন ঘুম ভাঙো লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

পার্সিভ্যাল হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী রানার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউল হাকিম চৌধুরী খসরু। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাজ্জাদ সুলতান, সাংগঠনিক সম্পাদক মারেজুল ইসলাম শাতিল এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসির আলী রাব্বি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পার্সিভ্যাল হিল একটি অত্যন্ত সুপ্রাচীন ও জনবহুল আবাসিক এলাকা। এখানে ৫০০টিরও বেশি বহুতল ভবন রয়েছে এবং চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ বাসিন্দা মিলিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে পুরো এলাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মাত্র ১৩ ফুট চওড়া একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সরু পথ দিয়ে ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ ও অসংখ্য যানবাহন যাতায়াত করায় এমনিতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি আবাসন কোম্পানি পার্শ্ববর্তী দেব পাহাড়ের শেষ প্রান্তে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। আবাসন কোম্পানিটি নিজেদের পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় বহুতল ভবনের অনুমোদন নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনকে ভুল বুঝিয়ে পার্সিভ্যাল হিল সোসাইটির ভেতরের সড়কটিকে নিজেদের পথ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। অথচ সিএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী দেব পাহাড়ের প্লটের সঙ্গে এই এলাকার রাস্তার কখনো কোনো সংযোগ ছিল না; রাস্তাটি বায়তুল আমান জামে মসজিদ গিয়েই শেষ হয়েছে। দেব পাহাড়ের ওই স্থানটি সোসাইটির সড়ক থেকে অন্তত ৩০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও জোরপূর্বক এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে তারা।

সমাবেশে পার্সিভ্যাল হিল জামে মসজিদের অজুখানা ভাঙার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, অনভিপ্রেতভাবে মসজিদের অজুখানা উচ্ছেদ করা মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত মুসল্লিদের অজুখানা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

পার্সিভ্যাল হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা কোনো ধরনের উন্নয়নের বিরোধী নন। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের সুবিধা দিতে গিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী আবাসিক এলাকার শান্তি, সড়ক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মানববন্ধন থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়, সড়কের প্রশস্ততা ও ধারণক্ষমতা, জরুরি সেবার প্রবেশাধিকার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা যথাযথভাবে যাচাই না করে প্রস্তাবিত বহুতল ভবনের যাতায়াতের পথ হিসেবে পার্সিভ্যাল হিলের সরু আবাসিক সড়ক ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না।