দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ক্ষতি

ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় মজবুত হয় দাম্পত্য জীবন। এই সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হলে সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। কখনো সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে সন্দেহের জন্ম হয়। আবার কখনো প্রমাণ ছাড়াই অবিশ্বাস তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এই প্রবণতা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। ইসলাম দাম্পত্য জীবনে ভালো আচরণ, পারস্পরিক অধিকার রক্ষা এবং অমূলক সন্দেহ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিয়েছে।

মানুষের মনের সব ধারণা সত্য নয়। অনেক সময় অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে সন্দেহ করা হয়। দাম্পত্য জীবনে এমন সন্দেহ অশান্তির কারণ হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ।’ (সুরা হুজুরাত ১২)

এই আয়াতে অমূলক ধারণা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। স্বামী কিংবা স্ত্রী কারও ফোন ব্যস্ত পেলে, বাড়ি ফিরতে দেরি হলে কিংবা কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ কিছু ধারণা করা উচিত নয়। আগে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করতে হবে। প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলে নির্দোষ মানুষও মানসিক কষ্টের শিকার হন।

দাম্পত্য জীবনে কোনো বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তা চেপে রাখা কিংবা রাগের মাথায় অভিযোগ করা, কোনোটিই ভালো সমাধান নয়। বরং শান্তভাবে নিজের উদ্বেগের কথা জানানো এবং জীবনসঙ্গীর বক্তব্য শোনা জরুরি। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।’ (জামে তিরমিজি)

এই শিক্ষা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। একজন স্ত্রী কোনো বিষয়ে কষ্ট পেলে স্বামীর উচিত তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। একইভাবে স্বামীর উদ্বেগ থাকলে স্ত্রীরও তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। পারস্পরিক সম্মান ও সুন্দর আচরণ সম্পর্কের সংকট সমাধানে সাহায্য করে।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত সন্দেহ, ঝগড়া ও অপমানজনক আচরণ চলতে থাকলে সন্তানদের মনেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যেমন বাবা প্রতিদিন মাকে সন্দেহ করছেন, আর মা প্রতিনিয়ত অপমানিত হচ্ছেন। এমন পরিবেশে বড় হওয়া শিশুরা সম্পর্কের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। তাই দাম্পত্য বিরোধের সমাধানে সন্তানদের মানসিক অবস্থার কথাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইসলাম যেমন অমূলক সন্দেহ থেকে বিরত থাকতে বলেছে, তেমনি অন্যায় ও প্রতারণাকে সমর্থন করেনি। তাই বিশ্বাসের অর্থ সব পরিস্থিতিতে চোখ বন্ধ করে থাকা নয়। আবার সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে অপরাধী ভাবাও ঠিক নয়। প্রয়োজন সত্য যাচাই, সংযম ও ন্যায়সংগত আচরণ।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার