চোখে ছানি পড়েছে অনেক দিন আগেই, কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না বৃদ্ধা লাভলী বেওয়া। অবশেষে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘তারেক বাবার বেটি জাইমাক যেন আল্লাহ বহুদিন বাঁচে রাখে বাবা। হামরা গরিব মানুষ, ট্যাকার অভাবে চোখ কাটতে পাচ্চিনে। জাইমার অছিলায় আল্লাহ হামার চোখটা ভালো করে দিচ্ছে। আল্লাহ জাইমাক, তারেক বাবাক আর মীর শাহে আলমোক ভালো রাখুক।’
বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে লাভলী বেওয়ার মতো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন সৈয়দপুর গ্রামের বৃদ্ধা সাহেদা ও নয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ কছিম উদ্দিনসহ অন্তত দুই হাজার অসহায় মানুষ। তাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির জন্য আন্তরিক দোয়া ও কৃতজ্ঞতা।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে শনিবার (২৪ অক্টোবর) মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে প্রায় দুই হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মোকামতলা ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৬ শতাধিক প্রতিভাবান ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেবেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই বগুড়া-২ আসনসহ সারাদেশে সমানভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে। মানুষের কল্যাণই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য 'আমি-ডামি' নির্বাচন নয়, বরং আগামী পাঁচ বছর জনগণের কল্যাণে কাজ করে পুনরায় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসতে চান তারা। এছাড়া আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রদান করার কথা জানান তিনি।
যাদের জন্য চোখের অপারেশনের খরচ বহন করা অসম্ভব ছিল, এই আয়োজন তাদের কাছে হয়ে উঠেছে নতুন করে পৃথিবী দেখার স্বপ্ন। লাভলী বেওয়ার মতো সাধারণ মানুষের আকুতিই প্রমাণ করে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে চোখের দৃষ্টি ফিরে পাওয়া কেবল চিকিৎসাই নয়—এক নতুন জীবন পাওয়ার শামিল।