ভালো কাজ করেও মনে শান্তি আসে না কেন

কারও ভালো কাজের মূল্য বাহ্যিক আচরণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। কাজটি কেন করা হচ্ছে, পেছনের উদ্দেশ্য কী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ভালো কাজ করলেই জীবনের সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে, এমন নয়। দুঃখ, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা মানুষের জীবনের পরীক্ষার অংশও হতে পারে। তাই ভালো কাজের পরও অশান্তি অনুভব করলে নিজের জীবন, নিয়ত ও মানসিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামে কাজের মূল্যায়নে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ বাহ্যিকভাবে ভালো কাজ করলেও তার অন্তরের উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে। কেউ মানুষের উপকার করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আবার কেউ মানুষের প্রশংসা, সম্মান কিংবা স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় উপকার করেন। প্রথম ক্ষেত্রে তার প্রধান লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মানুষের প্রশংসা তার প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

কেউ যদি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ভালো কাজ করেন, তাহলে প্রত্যাশিত প্রশংসা না পেলে তার মনে কষ্ট তৈরি হতে পারে। তিনি ভাবতে পারেন, এত কিছু করার পরও কেউ তাকে মূল্যায়ন করল না। ফলে ভালো কাজের পরও তার মনে অতৃপ্তি থেকে যায়। মানুষের জীবনে অর্থ, সাফল্য, সম্মান ও সম্পর্কের গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্যেও অন্তরের প্রশান্তির জন্য আল্লাহর স্মরণ প্রয়োজন। মানুষ যখন দুনিয়ার কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের যতœ নিতে পারে না, তখন তার জীবনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ ২৮)

এই আয়াত অন্তরের প্রশান্তি অর্জনে আল্লাহর স্মরণের গুরুত্ব তুলে ধরে। জিকির, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে দৃঢ় করতে পারে। এগুলো মানুষকে তার জীবনের উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুশ্চিন্তার সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে সাহায্য করে।

ইসলাম মানুষকে ভালো কাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করতে শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ নেককারদের প্রশংসা করে বলেন, ‘নিজেদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে খাবার দান করে। তারা বলে, আমরা তো তোমাদের খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও চাই না।’ (সুরা দাহর ৮-৯)

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার