জানতে হবে, কোথায় থামা জরুরি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে কথা বলে। কথার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ তৈরি হয়। কিন্তু সব কথা সব জায়গায় বলা যায় না। কখনো অপ্রয়োজনীয় কথা সম্পর্ক নষ্ট করে। আবার কখনো চুপ থাকা বড় কোনো বিবাদ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। তাই কথা বলার আগে ভাবতে হয়, কথাটি বলা প্রয়োজন কিনা, কখন বলা উচিত এবং কীভাবে বললে তা সুন্দর হয়।

ইসলাম কথাবার্তায় সংযমের শিক্ষা দেয়। মুমিনের পরিচয় তার কথাবার্তা, আচরণ ও মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে ফুটে ওঠে। তাই কোথায় কথা বলতে হবে, কোথায় নীরব থাকতে হবে এবং কখন নিজেকে থামাতে হবে, তা জানা জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কাফ ১৮)

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রতিটি কথার হিসাব রয়েছে। তাই মুখে যা আসে, তাই বলে দেওয়া উচিত নয়। কথা বলার আগে তার প্রয়োজনীয়তা, সত্যতা ও পরিণতি বিবেচনা করা দরকার।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (সহিহ বুখারি)

এই হাদিস কথাবার্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শেখায়। যে কথা কল্যাণকর, তা বলা উচিত। আর যে কথায় অকল্যাণের আশঙ্কা রয়েছে, তা থেকে বিরত থাকা উত্তম।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পরিবারের কোনো সদস্য রাগের মাথায় একটি ভুল করে ফেলেছেন। তখন তাকে সবার সামনে অপমান করে কথা শোনালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বরং তার রাগ কমার পর একান্তে ভুলটি বুঝিয়ে বলা ভালো। এতে তার সম্মান রক্ষা পাবে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। একই কথা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বন্ধুর ভুল ধরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই ভুল নিয়ে বারবার খোঁটা দেওয়া উচিত নয়।

আবার অনেক সময় মানুষ অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে। কারও পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব কথা মানুষের সম্মান নষ্ট করে এবং সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। কোনো কথা সত্য হলেই তা বলে বেড়ানোর অধিকার তৈরি হয় না। কথাটি বলা প্রয়োজন কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

 লেখক : ইসলামি গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত