বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রতিপক্ষের জালে চার গোল দেওয়ার উৎসব পালন করে জয়ের ধারা বজায় রেখেছে দুই পরাশক্তি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও বসুন্ধরা কিংস। আলাদা দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই আরও উত্তপ্ত করে তুলল দল দুটি। মুন্সীগঞ্জে শাহরিয়ার ইমনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মোহামেডান। অন্যদিকে কিংস অ্যারেনায় ঘরের মাঠে শুরুর ধাক্কা সামলে চট্টগ্রাম সিটি এফসিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।
মুন্সীগঞ্জের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে মোহামেডান। সেখানে গতকাল ম্যাচের আগেই প্রকাশিত সাফের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার হতাশাকে যেন শক্তিতে রূপ দেন ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের ২৯ মিনিটেই সাদা-কালোরা এগিয়ে যায়। অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে অফসাইডের ফাঁদ কাটিয়ে চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।
ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণভাগ যেন কোনোভাবেই ইমনের ক্ষিপ্র গতি ও বাড়ানো বল আটকাতে পথ পাচ্ছিল না। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয় অর্ধে মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ো ফুটবলে ওয়ান্ডারার্সকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় মোহামেডান। ৫২ মিনিটে ইমনের নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার টাচে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলেমান দিয়াবাতে। ঠিক চার মিনিট পর সেই দিয়াবাতের সহায়তায় দূরপাল্লার দুরন্ত শটে মোজাফফরভ ৩-০ করেন।
একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা ওয়ান্ডারার্স শেষ দিকে কেবল গোল হজম এড়ানোর চেষ্টা চালায়। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ইমনের বানিয়ে দেওয়া সাজানো আক্রমণ রক্ষণে ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সুযোগসন্ধানী আরিফ হোসেন চতুর্থ গোলটি করে মোহামেডানের ‘চারে চার’ জয় নিশ্চিত করেন। এই দাপুটে পারফরম্যান্সে ৪ ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি।
একই দিনে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়ে শুরুটা করেছিল চট্টগ্রাম সিটি এফসি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে বাম দিক থেকে সোনাম আশিসের জোরালো শটে স্বাগতিকদের রক্ষণের ভুল বোঝাবুঝিতে এগিয়ে যায় সফকারীরা। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি হ্যাটট্রিক শিরোপাধারীরা; উল্টো অলআউট অ্যাটাকে নেমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে। কিংসের একের পর এক আক্রমণে তছনছ হয়ে যায় সফরকারীদের রক্ষণ প্রাচীর। ২৮ মিনিটে মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয়ের মাপা পাস থেকে রিমার্কেবল ভলিতে কিংসকে সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় রবসন রবিনহো। চার মিনিট পর আবারও হৃদয়ের দূরদর্শী ক্রস থেকে চমৎকার হেডে কিংসকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন কাইকে (জেসাস দি সিলভা)।
বিরতির পর স্বাগতিকদের আক্রমণের মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়, যার কোনো উত্তর ছিল না চট্টগ্রাম সিটির ফুটবলারদের কাছে। ৫০ মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে বিদ্যুৎগতির শটে ৩-১ করেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন, যার মাধ্যমে মধ্যমাঠের সেনাপতি হৃদয়ের অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন হয়। ৭৯ মিনিটে কাইকে বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান। শেষ দিকে চট্টগ্রাম সিটির জাফর ইকবাল পেনাল্টিতে ব্যবধান কমালেও টানা তৃতীয় এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে বসুন্ধরা কিংস।
দিনের অন্য ম্যাচগুলোতেও জমে উঠেছে লিগ টেবিলের লড়াই। মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। পিডব্লিউডিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে অবস্থান করছে তারা। অন্যদিকে গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আরামবাগকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে সিটি ক্লাব। জোড়া গোল করে এই বড় জয়ের নায়ক পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্ত। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে কিংসের সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের চার নম্বর স্থানে উঠে এসেছে সিটি ক্লাব।