৮ বছর পর চেলসির মাঠে জিতল টটেনহ্যাম

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে টটেনহ্যাম হটস্পারের ইতিহাস খুব একটা সুখকর ছিল না। গত তিন দশকে এই মাঠে মাত্র একবার জয়ের মুখ দেখেছিল উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। তবে বৃষ্টিভেজা আর ঝোড়ো হাওয়ার রাতে গতকাল শনিবার সেই পুরোনো ইতিহাস উল্টে দিল রবার্তো ডি জেরবি দল।

ঠিক পাঁচ দিন আগে গত ১৯ অক্টোবর কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ১৪৮ দিন পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জয়ের মুখ দেখা টটেনহ্যাম এবার চেলসির দুর্গও ধসিয়ে দিল। চেলসি গোলরক্ষক মাইক প্যান্ডার্সের এক আত্মঘাতী গোল এবং তরুণ তারকা কোল পালমারের লাল কার্ড পাওয়ার সুবিধা নিয়ে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে তারা। ২০১৮ সালের পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এটিই স্পার্সদের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয়।

ইনজুরির কারণে শীর্ষ স্কোরার জোয়াও পেদ্রোকে ছাড়া মাঠে নামা চেলসি শুরু থেকেই আক্রমণের ধার খুঁজে পাচ্ছিল না। প্রথমার্ধে দুই পক্ষই সুযোগ তৈরি করলেও ডেডলক ভাঙে ম্যাচের শেষদিকে গিয়ে, ৭৭ মিনিটে। স্বাগতিকদের সেট-পিস কৌশলের সুযোগ নিয়ে টটেনহ্যামের মাথেউস ফার্নান্দেজের নেওয়া বাঁকানো কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোলরক্ষক প্যান্ডার্স ভুলবশত নিজেদের জালেই বল পাঞ্চ করে বসিয়ে দেন।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার বদলে চরম মেজাজ হারিয়ে বসে চেলসি। ফার্নান্দেজ ও পরে নিজের সাবেক সতীর্থ কনর গ্যালাগারকে ফাউলের পর উঠে এসে লাথির ভঙ্গিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারার অপরাধে ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চেলসির তারকা কোল পালমার। এরপরই দলের পক্ষে দ্বিতীয় ও জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন মাথিস টেল। মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে উঠে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নিচু জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

চেলসির এই চরম বাজে পারফরম্যান্স এবং পালমারের লাল কার্ড নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খোলামেলা কথা বলেছেন ব্লুজদের স্প্যানিশ কোচ চাবি আলোনসো। পালমারের লাল কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটা টিভিতে পুনরায় দেখিনি, তবে যতটুকু শুনেছি তাতে রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। কঠিন পরিস্থিতিগুলোতে আমাদের আরও পরিপক্বতা দেখাতে হবে। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আমাদের হাতে ১৫-২০ মিনিট সময় ছিল। কোলের সাথে কথা বলতে দৃশ্যটি আবার দেখতে হবে, তবে ভবিষ্যতে এমন ভুল থেকে অবশ্যই তাকে শিখতে হবে।’ 

অনভিজ্ঞ বেলজিয়ান গোলরক্ষক মাইক প্যান্ডার্সের আত্মঘাতী গোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলোনসো শিষ্যকে রক্ষা করে বলেন, ‘আমরা একসাথে জিতি, একসাথে হারি। আমরা মাইকসহ দলের সবাইকে সমর্থন করছি এবং সে অবশ্যই এই ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।’

অন্যদিকে এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর টটেনহ্যামের ইতালিয়ান ম্যানেজার ডি জেরবি দল নিয়ে রোমাঞ্চিত হলেও অতি-উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নন। প্রায় পাঁচ মাস পর লিগের জয়ের মুখ দেখতে থাকা দলের এই কোচ বলেন, ‘টানা দুটি জয় পেয়েছি বলে আমরা কেন এই প্রশ্ন করব না যে সামনে আরও ভালো করা সম্ভব? তবে আমরা এখনও বিশেষ কিছু জিতে যাইনি। আমরা প্রতি সপ্তাহে, প্রতিটি ম্যাচে কেবল আরও উন্নতি করতে চাই। এই ক্লাব এবং সমর্থকরা বহু ভুগেছে, এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’ 

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট টেবিলের ১২ নম্বরে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম। অন্যদিকে মৌসুমে নিজেদের মাঠে প্রথম হারের মুখ দেখে চার নম্বর স্থানেই থাকল চেলসি।