চলতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা সাত জয়ের পর অবশেষে অ্যাস্টন ভিলার দুর্গে এসে প্রথম হোঁচটের তেতো স্বাদ পেল ম্যানচেস্টার সিটি। ভিলা পার্কে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলার পুরোনো ভূত যেন পিছু ছাড়ল না সিটিজেনদের। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে এনজো মারেস্কার দলটি।
ভিলা পার্কে ম্যাচের শুরুতেই রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের মাশুল গুনতে হয় ম্যানচেস্টার সিটিকে। ৬ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার মার্ক গেহির পা থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে তা লুফে নেন জন ম্যাকগিন; তার নিখুঁত পাস থেকে নিখুঁত শটে ভিলাকে এগিয়ে নেন জ্যাকসন।
শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে দ্রুত সমতায় ফিরতে পাল্টা-আক্রমণে নামে সিটির ফরোয়ার্ডরা। তবে ইলিম্যান এনদিয়ায়ে ও রায়ান শেরকির জোরাল প্রচেষ্টা রুখে দেন ভিলার প্রাচীর হয়ে ওঠা গোলরক্ষক সুজুকি। একবার এনদিয়ায়ের নেওয়া চমৎকার শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হলে প্রথমার্ধে পিছিয়েই বিরতিতে যায় অতিথিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত সমতার স্বস্তি ফিরে পায় মারেস্কার দল। ৫৩ মিনিটে এনদিয়ায়ের মাপা ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে ১-১ সমতায় ফেরান আর্লিং হালান্ড। কিন্তু ভিলার দুর্গে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি জ্যাকসন। ৬০ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বদলি নামা ইব্রাহিম এমবায়ের বাড়ানো পাসে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড। সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার নিচ দিয়ে বল জালে জড়াতেই আবারও লিড নেয় ভিলা।
শেষ দিকে হালান্ডের একটি নিশ্চিত গোললাইন ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দেন ভিলার ডিফেন্ডার ইয়ান মাটসেন, ফলে ভিলার মাঠে আবারও হার মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় সিটিকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের এই পরাজয় ও পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি ম্যানেজার এনজো মারেস্কা ক্লাবের অফিশিয়াল মিডিয়াকে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দলের পারফরম্যান্স ভালোই ছিল, আমরা বেশ কিছু চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কেবল প্রতিপক্ষের একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই গোল হজম করেছি। এই ধরনের ট্রানজিশনগুলোতে আমাদের হয়তো আরও ভালোভাবে ডিফেন্ড করা উচিত ছিল কিংবা ভাগ্যটা আরেকটু পক্ষে থাকা দরকার ছিল, কিন্তু এটাই তো ফুটবল।’
মারেস্কার সুরেই সুর মিলিয়ে হারের পর মাঠের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দলপতি রুবেন দিয়াস। ক্লাবের অফিশিয়াল ম্যাচ পরবর্তী মিডিয়া টকে দেওয়া বার্তায় তিনি মন্তব্য করেন, ‘ফলটা সত্যিই হতাশাজনক, কারণ আমরা মাঠে প্রচুর লড়াই করেছি। ম্যাচের প্রথম ১০-১৫ মিনিটে আমরা খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় নিয়েছিলাম কারণ প্রতিপক্ষ তাদের স্বাভাবিক ফরমেশন বদলে খেলেছে। তবুও আমরা লড়াই করেছি, সুযোগও তৈরি করেছি। কিন্তু তারা দুটি কাউন্টার অ্যাটাক পেয়ে দুটোতেই গোল আদায় করে নিয়েছে, যা তাদের চরম কার্যকারিতাই নির্দেশ করে। আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে এবং আরও ভালো করতে হবে।’
এই হারে প্রিমিয়ার লিগে টানা ৪ ম্যাচে ভিলা পার্কে পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে সিটিজেনদের।
পিছিয়ে পড়েও কিংসের রোমাঞ্চকর জয়