পূজায় বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলে নির্বিঘ্ন ছিল সেতুতে চলাচল

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যানবাহনের চাপ বাড়লেও পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও টানেলে যান চলাচল নির্বিঘ্ন ছিল। উৎসবকালীন সময়ে বড় ধরনের যানজট বা দুর্ঘটনা ছাড়াই যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের দিকনির্দেশনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে পদ্মা সেতুতে এক লাখ ৬০ হাজার ৬১৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে সেতুটি দিয়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা।

সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পদ্মা সেতুতে ২৩ হাজার ৬৪৬টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যানবাহন পারাপার বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সঙ্গে টোল আদায় বেড়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা।

এদিকে, যমুনা সেতুতেও যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় বেড়েছে। ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে এ সেতু দিয়ে এক লাখ ৭৩ হাজার ৪০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এতে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা।

গত বছরের তুলনায় এবার যমুনা সেতুতে ২৩ হাজার ৯৩৮টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় বেড়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

তবে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন পারাপার কিছুটা কমেছে। এবারের দুর্গাপূজার ছয় দিনে টানেলটি দিয়ে ২৭ হাজার ৯১৩টি যানবাহন চলাচল করেছে।

এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ২৯ হাজার ৮৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে, মুক্তারপুর সেতুতে যানবাহন পারাপার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে সেতুটি দিয়ে ৭৮ হাজার ৭৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৫ টাকা। গত বছর একই সময়ে ৫৮ হাজার ৯৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকা। অর্থাৎ, এবার সেতুটিতে ১৯ হাজার ৭৯৮টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

উৎসবকালীন সময়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু ভবনে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভির মাধ্যমে সেতু ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হয়।

সেতুর ওপর কোনো যানবাহন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসকে অবহিত করা হতো। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে যানবাহন সচল করা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিতেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ০১৭০০৭১৬৪৬৫ নম্বরে একটি হটলাইনও চালু করা হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যান চলাচল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যমুনা সেতুর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। এ সময় তিনি দেখতে পান, যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও যমুনা সেতু এলাকায় উল্লেখযোগ্য যানজট সৃষ্টি হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।