বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

প্রতিমা বিসর্জন, সিঁদুর খেলা, পুষ্পাঞ্জলি, মিষ্টিমুখ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পালিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। 

বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শেষে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারীরা। একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তারা ভাগাভাগি করেন উৎসবের আনন্দ। তবে আনন্দের পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল বিদায়ের বিষাদও।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে বিকেল ৪টায় রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার শুরুতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। পরে শোভাযাত্রাটি সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। শোভাযাত্রা ও বিসর্জন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দর্পণ বিসর্জন হয়। মণ্ডপে দিনভর প্রচুর মানুষের সমাগম ছিল। বিকেল ৪টায় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা শেষে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।’

এবারের পূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ২৫–৩০ বছরের তুলনায় এবার মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের সার্বজনীনতা বেশি দেখা গেছে। সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই প্রাপ্তিকে সামনে রেখে আমরা সামনের দিনের নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের শেষ দিন। এদিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সিঁদুর খেলা, মিষ্টিমুখ ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভক্তরা বিজয়া দশমী উদযাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিসর্জনের পর মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে শান্তির প্রতীক হিসেবে জল বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সবার মঙ্গল এবং আগামী দিনগুলো ভালো কাটার প্রার্থনা করা হয়।’

প্রণব চক্রবর্তী জানান, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ দশমী তিথি সকাল ১১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ছিল। এ সময়ের মধ্যে দশমীর বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। 

এ বছর দেবীর আগমন ঘটেছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন হয়েছে নৌকায়। শাস্ত্রমতে, ঘোটকে আগমনের ফলে ছত্রভঙ্গ ও রোগব্যাধির আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, নৌকায় গমন শস্যে সমৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীর আচার-অনুষ্ঠান, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা এবং ২০ অক্টোবর মহানবমী উদযাপিত হয়। সবশেষে আজ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসব।

এবার ঢাকা মহানগরে ২৫৮টিসহ সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত