কবিতা

সমুদ্রজলের শতবর্ষী স্পর্শে মসৃণ স্বচ্ছ-সবুজ কাচ

কখনো কোনো এক ভরা সাঁঝে
       শরীরে এসে লাগে ফেনার সিগ্ধ আঁচ,
রূপ পায় রুপালি এক আকাঙ্ক্ষা—
                           মনে হয়... এ মুহূর্তে চাই
সমুদ্রজলের শতবর্ষী স্পর্শে মসৃণ স্বচ্ছ-সবুজ কাচ,
মন্দ্রিত হয় ঊর্মি নিঃসৃত ধ্বনি
                      শঙ্খনিধি শব্দের দিগন্তপ্লাবী সানাই;

রাজবন্দির প্রচ্ছন্ন দ্রোহের মতো কাচের কারাগারে
                          বন্দি হয়ে আছে বাতাসি বুদবুদ,
                 বসবাস করছে হাওয়ার বৃত্ত—
নিবিড় নিরিখে দৃশ্যমান হয়...
                        আঙিনা... খড়কুটো... চাল... খুদ;
আলোর বর্ণালিতে মসিলিপ্ত হয়
     চলৎশক্তিহীন হিমায়িত গোলকের চিত্ত
                  তবে পায় না তেমন প্রত্যাশিত উষ্ণতা,
বলয়ের গোলকধাঁধায় চক্রাকারে ভাসে
যুগ যুগান্তরের মান অভিমান... গৃহদাহ... গৌরব—
আছে হয়তো কাচবন্দি বৃত্তকৌমের দৃঢ় কোনো প্রথা,
স্তব্দ হয়ে আছে জীবাষ্মপ্রতিম
                      অনাদি যুগের বিস্মৃত কোনো সৌরভ!

মনে হয়... এ মুহূর্তে আমার চাই
                                   স্বচ্ছ-সবুজ কাচের একটি ডানা,
কেটে তো গেল অর্ধশতাব্দী... সহস্র রজনী... শতেক মৌসুম
বুঝতে পারিনি... বাতাসি বৃত্তের অভ্যন্তরে সুপ্ত বোধিদ্রুম,
               কীভাবে যেন থেকে গেছি... জীবনভর... তালকানা।