মাঠ এবং মাঠের বাইরে সব মিলিয়ে যেন চরম এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসকে দলে না রেখেও পার পেলেন না কোচ মাইকেল ক্যারিক। ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে স্রেফ ধূলিসাৎ হয়ে গেল রেড ডেভিলরা। এই লজ্জাজনক হারের পর রেলিগেশন অঞ্চলের ঠিক ১ পয়েন্ট ওপরে নেমে যাওয়া ইউনাইটেডে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে।
দলীয় অসংগতি এবং পারফরম্যান্সের চরম অভাবের মধ্যে বোর্নমাউথের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রয়া ফ্রেতাস রশ (রয়ান), মারকাস টাভার্নিয়ার ও ফ্রান্সিসকো এভানিলসন। টানা ৮ ম্যাচে জয়ের দেখা না পাওয়া ইউনাইটেডের সাবেক তারকা ক্যারিকের ওপর এখন ছাঁটাইয়ের খড়্গ ঝুলছে, অন্যদিকে গুঞ্জন উঠেছে কোচের পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন এডি হাউ।
ম্যাচের শুরু থেকেই মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হিমশিম খায় স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে রক্ষণের ভুলে প্রথম ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। জাস্টিন ক্লাইভার্টের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক বোর্নমাউথ উইঙ্গার রয়ানের পায়ে পড়লে অরক্ষিত অবস্থায় তা গোলপোস্টে পাঠাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান।
প্রথম গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল খায় ক্যারিকের দল। তরুণ ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরোর ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের ভেতর বল বের করে দেন আদ্রিয়া ট্রুফার, আর তা থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন টাভার্নিয়ার। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ হতেই গ্যালারি থেকে স্বাগতিক সমর্থকদের ক্ষোভ ও দুয়ো ধ্বনিতে ভারী হয়ে ওঠে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে ইউরি তিলেমানসকে তুলে ম্যাথিয়াস কুনহাকে নামান ক্যারিক। কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ৭১ মিনিটে গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের মারাত্মক ভুলে ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এভানিলসন। ক্লিয়ার করতে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসা লামেন্সকে পরাস্ত করে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে দারুণ কার্ভিং শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচজুড়ে ডাগআউটে জ্যাকেটে মুখ লুকিয়ে বেঞ্চেই বসে ছিলেন বাদ পড়া অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস, আর গ্যালারিতে বিষণ্ণ মুখে বসে থাকতে দেখা যায় ক্লাবের ফুটবল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্সকে। শেষ বাঁশি বাজতেই দর্শকরা তীব্র দুয়ো দিয়ে দল ও ম্যানেজমেন্টের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মাঠ ছাড়েন।