নরমাংস ভক্ষকরা পিশাচ?

বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দুর্ভিক্ষ, মানসিক বিকার বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষ নরমাংস ভক্ষণ করেছে। তবে মানুষ সবসময় নিষ্ঠুরতা বা মানসিক বিকৃতির জন্য মানুষের মাংস খায়নি। বরং এর পেছনে বেঁচে থাকার লড়াই, ধর্মীয় আচার ও সামাজিক সংস্কৃতি বড় ভূমিকা পালন করেছে। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের প্রাচীন ‘মাগদালিনিয়ান’ সংস্কৃতির মানুষরা মৃতদেহ কবর না দিয়ে, তাদের মাংস ভক্ষণ করত। নিউজিল্যান্ডের পলিনেশিয়ান আদিবাসী ‘মাওরিস’ এবং পাপুয়া নিউগিনির ‘মিয়ামিন’ উপজাতিরা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর শত্রুর মাংস খেত। পাপুয়া নিউগিনির ‘ফোর’ উপজাতির মধ্যে মৃত স্বজনের মস্তিষ্ক খাওয়ার ধর্মীয় রেওয়াজ ছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে মারণঘাতী ‘কুরু’ নামের মস্তিষ্কের রোগ ছড়ায়। প্রাচীন রোমান প্রজাতন্ত্রে নুমানতিয়া অবরোধ এবং প্রাচীন এথেন্সে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র দুর্ভিক্ষে, মানুষ নরমাংস ভক্ষণে বাধ্য হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউগিনি ও চিচিজিমাতে অবরুদ্ধ জাপানি এবং সাইবেরিয়ায় বন্দি জার্মান যুদ্ধবন্দিরা তীব্র খাদ্যাভাবে মানুষের মাংস খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। ১৯৭২ সালের আন্দিজ পর্বতে বিমান দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীরা বরফের মধ্যে আটকা পড়ে, মাসের পর মাস মৃত সহযাত্রীদের মাংস খেয়ে বেঁচে ছিলেন। মেক্সিকোর প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতায় বিশেষ ধর্মীয় উৎসবে বলি দেওয়া মানুষের দেহের কিছু অংশ পুরোহিত ও অভিজাতদের মধ্যে খাওয়ার প্রচলন ছিল। ইতিহাস বলে- দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ যখন খাবার পায়নি, তখন বেঁচে থাকার শেষ উপায় হিসেবে মানুষের মাংস খেয়েছে।