অভাব ও সচ্ছলতা, দুটিই মানুষের জন্য পরীক্ষা

সুস্থতা ও অসুস্থতা, সচ্ছলতা ও অভাব, সাফল্য ও ব্যর্থতা মানুষের জীবনের অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব পরিস্থিতিই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। বিপদে মানুষ কতটা ধৈর্য ধরে এবং স্বস্তিতে কতটা কৃতজ্ঞ থাকে, এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় মানুষের ইমানের গভীরতা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের ভালো ও মন্দ দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আম্বিয়া ৩৫)

আয়াতটি মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে। মানুষ সাধারণত বিপদকে পরীক্ষা মনে করে। কিন্তু সুখ, সম্পদ, ক্ষমতা ও সাফল্যও যে পরীক্ষার অংশ, তা অনেক সময় ভুলে যায়। অথচ অভাবের সময় ধৈর্য ধারণ করা যেমন জরুরি, সচ্ছলতার সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং মানুষের অধিকার আদায় করাও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।

বিপদ মানুষের ইমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার পরীক্ষা নেয়। অসুস্থতা, আর্থিক সংকট কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যু মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মুমিন হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। বিপদ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালায় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা ১৫৩)

অন্যদিকে স্বস্তি ও সচ্ছলতার সময়ও মানুষকে সতর্ক থাকতে হয়। কারণ সুখের সময় অনেকেই আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কথা ভুলে যায়। সম্পদ অর্জন করলে অহংকার করে, ক্ষমতা পেলে অন্যকে অবহেলা করে এবং সাফল্য এলে নিজের যোগ্যতাকেই সবকিছুর কারণ মনে করে। অথচ সুস্থতা, সম্পদ, সম্মান ও প্রতিভা সবই আল্লাহর দান। এসব নেয়ামতের যথাযথ ব্যবহার করা এবং অন্যের কল্যাণে কাজে লাগানোই কৃতজ্ঞতার পরিচয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম ৭)

মানুষের জীবনে বিপদ ও স্বস্তির পরিবর্তন আসতেই পারে। আজ যে ব্যক্তি অভাবে আছেন, আগামীকাল তিনি সচ্ছল হতে পারেন। আবার আজ যিনি সুস্থ ও সম্পদশালী, তিনিও ভবিষ্যতে অসুস্থতা কিংবা আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। কোনো অবস্থাকেই স্থায়ী মনে করা মুমিনের কাজ নয়। অতএব, বিপদ এলে হতাশ হওয়া যাবে না, আবার স্বস্তি পেলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। প্রতিটি পরিস্থিতিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও সৎকর্মের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে পারলেই দুনিয়ার পরীক্ষায় সফল হওয়ার আশা করা যায়।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার