দশমিনায় ৬ জেলের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দশমিনায় মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তেঁতুলিয়া নদীতে পৃথক দুই দিনের অভিযানে ১১ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং বয়স বিবেচনায় তিন কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ও রবিবার পৃথক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় মোট ২ লাখ ৯০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চারটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের সময় চার জেলেকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন দশমিনা উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামের সাগর রাঢ়ী (২০), ইমরান গাজী (১৯), সোহাগ হোসেন মিয়া (১৯) ও জহির মির (১৯)। এ সময় ৭০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে তাঁদের নির্বাহী আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আরও সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের জাফর গাজী (৩৫) ও মানিক (১৮) এবং চরবোরহান ইউনিয়নের কাওসার (১৩), সাগর গাজী (১৪), মিলন সরদার (৪০), ফিরোজ খান (২৫) ও ইমাম মোর্শেদ (১৪)। এ সময় ২ লাখ ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন সরদার ও ফিরোজ খানকে নির্বাহী আদালত এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। জাফর গাজী ও মানিকের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করেছে নৌপুলিশ। অন্যদিকে, বয়স বিবেচনায় তিন কিশোর কাওসার, সাগর গাজী ও ইমাম মোর্শেদকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

জব্দ করা কারেন্ট জাল তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী হাজিরহাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস ও উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।