ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় মেয়ের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৮০) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মেয়ে রিনা আক্তারকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামের বাদশাহ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের মৃত হোসেন আহমেদের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে রিনা আক্তার অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। সম্প্রতি তিনি তার স্বামীকেও মারধর করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তার মানসিক সমস্যাসহ অন্যান্য বিষয়ে চিকিৎসা চলছিল।
রবিবার রাতে হঠাৎ রিনা ঘরের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ধারালো বটি দিয়ে তার মাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে রিনা হাতে বটি নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় ঘরের মেঝে থেকে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিনা আক্তারকে আটক করা হয়।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রিনার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে কী কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।