পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে ১১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাদের এক থেকে চার সেমিস্টার পর্যন্ত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ৪২তম সভার সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড, এম. কেরামত আলী হল ও হলের বাইরে একাধিকবার র্যাগিংয়ের ঘটনায় কৃষি অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মইন উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হবে। একই শিক্ষাবর্ষের এএইচএম সামিউল হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দুই সেমিস্টার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ মুনতাসির মাহমুদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দুই সেমিস্টার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই শিক্ষাবর্ষের মো. আহসান হাবীব লিংকন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তানফিজ নুর রাতুল ও মো. আহনাফ শাহরিয়ারকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে এক সেমিস্টার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অপর এক আদেশে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব ও নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিব্বিল মিয়া ও নাঈম হোসেন রুম্মান এবং ইএসডিএম অনুষদের ফাইয়াজ মাহমুদ শহীদকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের তিন সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হবে।
একই ঘটনায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিতুল পালকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক সেমিস্টার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাইবার বুলিং, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে এলএলএ অনুষদের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দিন আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দুই সেমিস্টার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ভবিষ্যতে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে।
পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।