টেস্টের উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন শান্ত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির ছাপ রাখলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে সমীকরণ নিয়ে বাড়তি চিন্তা না করে ম্যাচ ধরে এগোতে চান বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে দলের বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উন্নতির প্রত্যাশা তার।

সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট শান্ত। আফগানিস্তান সিরিজের পর দেশে ফেরা ক্রিকেটাররা আগেভাগে অনুশীলন শুরু করায় প্রস্তুতির ঘাটতি দেখছেন না তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে এলেও প্রতিপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে চান না বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘প্রত্যেকটা সিরিজেই অনেক কঠিন সময় আসে। আমাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। গত কয়েক বছর ধরে আমরা এভাবেই ক্রিকেট খেলছি। প্রস্তুতির দিক থেকে খেলোয়াড়েরা ভালো অবস্থানে আছে। প্রতিপক্ষ কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটা নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করছি না। আমরা কত ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে ম্যাচটা খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

ডব্লিউটিসির ফাইনালে ওঠার সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আপাতত সেই হিসাবের মধ্যে ঢুকতে রাজি নন শান্ত। তার পরিকল্পনা, প্রতিটি ম্যাচ ও সেশন ধরে এগিয়ে যাওয়া। বড় লক্ষ্য সামনে রেখে বাড়তি চাপ নেওয়ার বদলে নিজেদের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে চান তিনি, ‘আমরা খুব বেশি দূরে চিন্তা করছি না। একেকটা ম্যাচ, একেকটা ঘণ্টা ধরে এগোচ্ছি। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকি, অবশ্যই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এই দুই টেস্টে কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, আপাতত সেটাতেই আমাদের মনোযোগ।’

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে ধারাবাহিকতার অভাবও স্বীকার করে শান্ত বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দুই-তিনটি টেস্টে আমরা একটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, যেভাবে খেলছিলাম। ওই জায়গাটাতে অবশ্যই ধারাবাহিকতা দরকার। কীভাবে ভালো করতে পারি, সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, পরিকল্পনাও হচ্ছে। আমার মনে হয়, এই দল বর্তমান অবস্থান থেকে আরও ২০-৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।’

সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র হওয়া টেস্টটিকে জয়ের সুযোগ হারানো হিসেবে দেখলেও সেখান থেকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন শান্ত। পাঁচ দিন লড়াই করে শেষ সেশন পর্যন্ত জয়ের চেষ্টা দলকে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের পর টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে জানান অধিনায়ক।

দলের ব্যাটিং কোচের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন শান্ত। কোচিং স্টাফে পরিবর্তন হলেও নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা দেখছেন না তিনি। নতুন দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিনের সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি আগের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন অধিনায়ক, ‘আশরাফুল ভাই যতটুকু সময় কাজ করেছেন, ভালো কাজ করেছেন। অনেক কিছু শেয়ার করেছেন, তার সঙ্গে কাজ করে উপভোগ করেছি। ব্যাটিং কোচ হিসেবে যিনি এসেছেন, তিনি ড্রেসিংরুমেই ছিলেন কিছুদিন আগে। তার সঙ্গে অতীতেও অনেক কাজ করেছি। তাই কোচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না। সালাউদ্দিন স্যারও ভালো করছেন।’