শান্তদের হারাতে উইন্ডিজের মন্ত্রণাদাতা বাংলাদেশের সাবেক কোচ 

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় এলেও হোটেলেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। এর মধ্যে গত সোমবার মিরপুরে নিজেদের ঝালিয়ে নেন তারা। সেদিন প্রথম টেস্টের ভেন্যু শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ দেখতে গিয়ে কিছুটা হতাশ হতে দেখা গেল ক্যারিবীয় প্রধান কোচ ড্যারেন সামিকে। ঘাসে মোড়ানো সবুজ আউটফিল্ডের সঙ্গে উইকেট আলাদা করার উপায় নেই। যদিও ম্যাচের বাকি আরও ৬ দিন। এই সময়ে উইকেটে ঘাস আরও ছোট হবে। তবে মিরপুরের চিরাচরিত স্পিন সহায়ক উইকেট যে থাকছে না, সেটা এখানে এসে হয়তো বুঝে গেছেন সফরকারীরা। তবে এখানে আসার আগে স্পিনের বিপক্ষে লড়তে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের স্পিন সামলানোর চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেই বাংলাদেশে এসেছে উইন্ডিজ। বাংলাদেশের কন্ডিশনে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটাতে ঢাকায় আসার আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে দলটি। সেখানে বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ শ্রীধরন শ্রীরামের সহায়তায় স্পিন মোকাবিলার কৌশল, স্ট্রাইক রোটেশন ও রান তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করেছেন ব্যাটসম্যানরা। 

এ নিয়ে ক্যারিবীয় দলের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার আজ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘দুই সপ্তাহের এই ক্যাম্পটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সফল ছিল। সেখানে শ্রীধরন শ্রীরাম ও তার কোচিং দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, পিচ ও কোচিং সহায়তা—সবকিছুই ভালো ছিল। আমরা সময়টাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছি। অনেক বল খেলেছি, পেস বোলিং মোকাবিলা করেছি এবং বিভিন্ন ড্রিল করেছি।’

তবে প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের কার্যকারিতা বাড়ানো। শুধু উইকেট বাঁচিয়ে খেলাই নয়, বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখতে রান তোলার বিকল্প খুঁজে বের করার ওপরও জোর দিয়েছে দলটি। রেইফার জানান, টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর পাশাপাশি স্ট্রাইক রোটেশন, শট নির্বাচন ও স্কোরিংয়ের সুযোগ কাজে লাগানোর অনুশীলন করেছেন ব্যাটসম্যানরা। প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনুশীলন করেছেন তারা।

শ্রীরাম ও তার দলের অভিজ্ঞতায় উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি রেইফারের। তিনি বলেন, ‘স্পিনের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা, ডিফেন্স শক্ত করা, স্ট্রাইক রোটেশন বজায় রাখা এবং রান তোলার সুযোগ তৈরি করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ সফরের জন্য ছেলেরা প্রস্তুত। প্রতিপক্ষ যে ধরনের স্পিনই করুক, তা সামলানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। এখন চাপের মুখে মাঠে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত