এআই ব্যবহারে দক্ষতার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও মৌলিক ধারণা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় ভুল তথ্য বা উত্তর দিতে পারে। কোনো বিষয়ে নিজের ধারণা পরিষ্কার না থাকলে এআইয়ের ভুল শনাক্ত করাও কঠিন। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।

বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বরাদ্দের কোনো অপচয় না হয়।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাঠ্যবইয়ের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চারটি নতুন বই দেওয়া হবে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করতে দেশের বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরগুলোতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি সম্পূরক বই দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।