৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৪ প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্তির দাবি

‘আমরা কেউ আবেদ ক্যাডার নই, মেধা ও যোগ্যতায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি’

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

৪৫তম বিসিএসে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসা ৫৪ প্রার্থীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিসিএসের সব ধাপ সফলভাবে পার হওয়ার পরও সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত কারণ ছাড়াই তাঁদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেট বঞ্চিতরা’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিসিএসের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ৫৪ জন প্রার্থী গেজেটে স্থান পাননি। তাঁদের মতে, যথাযথ কারণ ছাড়া এভাবে প্রার্থীদের বাদ দেওয়া তাঁদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

একজন বঞ্চিত প্রার্থী বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এখানে উপস্থিত কেউই ‘আবেদ ক্যাডার’ নন কিংবা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে ক্যাডার হননি। তাঁরা নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুপারিশ পেয়েছেন। এরপরও তাঁদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, সরকার তাঁদের বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে বলে তাঁরা আশা করেন। যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করে অন্য যোগ্য প্রার্থীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

আরেক প্রার্থী ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ১ হাজার ৮০৭ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ১ হাজার ৭০২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জন গেজেটের বাইরে থেকে যান।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ জন মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানা গেছে। তবে সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও ৫৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।

ওই প্রার্থী বলেন, নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বিসিএসের সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও তাঁদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার যৌক্তিক কারণ জানতে চান তাঁরা।

নিজের কর্মজীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি নিজেও ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, ৪৪তম বিসিএসে চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারলেও ৪৫তম বিসিএসে তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কী?

তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই তাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গেজেট থেকে বাদ পড়ায় তাঁরা হতাশ।

নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওই প্রার্থী বলেন, কলেজজীবন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, ২০১৩-১৪ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এরপরও কেন তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারের কাছে চান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই, কিসের ভিত্তিতে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? আমরা কি এই রাষ্ট্রের নাগরিক নই? এই রাষ্ট্রের সংবিধান কি আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়?’

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না—এমন আশ্বাসের পরও তাঁদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত