ইমানের দৃঢ়তায় মেলে স্থিরতা

কষ্টের সময় মানুষের মানসিক শক্তি ও বিশ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায়। যার ইমান দৃঢ়, সে বিপদের মধ্যে ধৈর্য ধারণ করে। আর যার ইমান দুর্বল, সে সামান্য সংকটেও দিশেহারা হয়ে পড়ে। 

ইমান মানুষকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করে। সে জানে, পৃথিবীর জীবন পরীক্ষা ও দায়িত্বের ক্ষেত্র। আল্লাহ কখনো সম্পদ, কখনো অভাব, কখনো সুস্থতা, আবার কখনো অসুস্থতার মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষা করেন। তাই বিপদে পড়লে সে হতাশ হয় না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

দৃঢ় ইমান মানুষের জন্য পাথেয় ও পথপ্রদর্শকের মতো। এটি তাকে বিপদের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ইমানের দুর্বলতা মানুষকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। সে বিপদের কারণ বুঝতে পারে না, পরিস্থিতি সামলানোর সাহস হারিয়ে ফেলে। ফলে ছোট সমস্যাও তার কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে।

আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়ার পরিণতিও ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে। তারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।’ (সুরা যুমার ২২)

আল্লাহর স্মরণ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে। তার প্রতি বিশ্বাস মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং দায়িত্বশীল হতে শেখায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা মনে রাখে, সে কথা ও কাজে সতর্ক থাকে। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের অধিকার নষ্ট করে না। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায়ও আন্তরিকতার পরিচয় দেয়।

অন্যদিকে, ইমানের দুর্বলতা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলে। সে নিজের কাজের পরিণতি নিয়ে উদাসীন হয়ে পড়ে। অন্যের প্রতি আস্থা ও দায়িত্ববোধও হারিয়ে ফেলে।

তাই ইমানকে দৃঢ় রাখা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ আদায়, আল্লাহর জিকির ও নেক আমলের মাধ্যমে ইমানকে সতেজ রাখতে হবে। বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে হবে।